প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৬৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐকান্ত করে, পাছে এক্সফোট জল লাগিয়া দামী ওভারকোট খারাপ হইয়া যায়, পাছে নড়িলে চড়িলে কোনরূপ ব্যাঘাত হয়, এই ভয়েই আড়ষ্ট হইয়। বসিয়া রছিলেন, এবং অবিশ্রাম চেচামেচি করিয়া হুকুম করিতে লাগিলেন । আরও বিপদ গঙ্গার রুযিকর হাওয়ায় বাবুর ক্ষুধার উদ্রেক হইল এবং দেখিতে দেখিতে সে ক্ষুধা অবিশ্রাস্ত বকুনির চোটে একেবারে ভীষণ হইয়া উঠিল । এদিকে চলিতে চলিতে রাত্রিও প্রায় দশটা হইয়া গেছে—থিয়েটারে পৌছিতে রাত্ৰি দুটা বাজিয়া যাইবে গুনিয়া, বাবু প্রায় ক্ষিপ্ত হইয়া উঠিলেন। রাত্রি যখন এগারোটা, তখন কলিকাতার বাৰু কাবু হইয়া বলিলেন, হা রে ইন্দ্র, এদিকে খোট্রামোট্রাদের বস্তি-টস্তি নেই । মুড়ি টুরি পাওয়া যায় না ? ইন্দ্ৰ কহিল, সামনেই একটা বেশ বড় বস্তি নতুনদা। সব জিনিস পাওয়া যায়। তবে লাগা লাগা—ওরে ছোড়া—ঐ--টান না একটু জোরে -ভাত খাসনে ? ইন্দ্র, বল না তোর ওই ওটাকে একটু জোর ক’রে টেনে নিয়ে চলুক । ইন্দ্র কিংবা আমি কেহই তাহার জবাব দিলাম না। যেমন চলিতেছিল, তেমনি ভাবেই অনতিকাল পরে একটা গ্রামে আসিয়া উপস্থিত হইলাম। এখানে পাড়টা ঢালু ও বিস্তৃত হইয়া জলে মিশিয়াছিল। ডিঙি জোর করিয়া ধাক্ক দিয়া সঙ্কীর্ণ জলে তুলিয়া দিয়া আমরা দুজনে হাপ ছাড়িয়া বাচিলাম। বাবু কছিলেন, হাত-পা একটু খেলানো চাই। নাবা দরকার। অতএব ইন্দ্র তাহাকে কাধে করিয়া নামাইয়া আনিল । তিনি জ্যোৎস্নার আলোকে গঙ্গার শুভ্র সৈকতে পদচারণা করিতে লাগিলেন। আমরা দুজনে তাহার ক্ষুধাশাস্তির উদ্দেশে গ্রামের ভিওরে যাত্রা করিলাম। যদিচ বুঝিয়াছিলাম, এতরাত্রে এই দরিদ্র ক্ষুদ্র পল্লীতে আহাৰ্য্য সংগ্রহ করা সহজ ব্যাপার নয়, তথাপি চেষ্টা না করয়াও ত নিস্তার ছিল না। অথচ তাহার একাকী থাকিতেও ইচ্ছা নাই । সে ইচ্ছা প্রকাশ করিতেই, ইন্দ্র তৎক্ষণাং আহবান করিয়া কহিল, চল না নতুনদা একলা তোমার ভয় করছে—আমাদের সঙ্গে একটু বেড়িয়ে আসবে। এখানে চোর-টোর নেই, ডিঙি কেউ নেৰে コTー5研 l নতুনদা মুখখানা বিকৃত করিয়া বলিলেন, ভয় । আমরা দজ্জিপাড়ার ছেলে, স্বমকে ভয় করিনে তা জানিস । কিন্তু তা বলে ছোটলোকদের dirty পাড়ার মধ্যেও আমরা ফাইনে । ব্যাটাদের গায়ের গন্ধ নাকে গেলেও আমাদের ব্যামে। হয়। অথচ তাহার মনোগত অভিপ্রায়—আমি তাহার পাহারায় নিযুক্ত থাকি এৰং ९छांभांक जांछि ।