প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৭৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ মূল্যবান কার্পেটের উপর গরদের শাড়ি পরিয়া বাইজী বসিয়া আছে। ভিজা এলোচুল পিঠের উপর ছড়ানো ; হাঙ্গের কাছে পানের সাজ-সরঞ্জাম, স্বযুধে গুড়গুড়িতে তামাক সাজা । আমাকে দেখিয়া গাত্রে খান করিয়া হাসিমুখে সুমুখের আসনট দেধাইরা দিয়া কহিল, বোলো। তোমার স্বযুধে তামাকটা খাবো না আর—ওরে রতন, গুড়গুড়িটা নিয়ে যা । ওকি দাড়িয়ে রইলে কেন, বোসে না ? § রতন আলিয়া গুড়গুড়ি লইয়া গল । বাইজী কহিল,—তুমি তামাক খাও তা জানি ; কিন্তু দেব কিলে ? অন্য জায়গায় যা কর, তা কর । কিন্তু আমি জেনে-স্তনে আমার গুড়গুড়িটা ত আর তোমাকে দিতে পারি নে! আচ্ছা, চুরুট আনিয়ে দিচ্ছি— var { ve---- ৰাক্ থাকৃ, চুরুটে কাজ নেই ; আমার পকেটেই আছে। আছে ? বেশ তা হ’লে ঠাণ্ড হয়ে একটু বোসো ; ঢের কথা আছে। ভগবান কখন যে কার সঙ্গে দেখা করিয়ে দেন, তা কেউ বলতে পারে না । স্বপ্নের অগোচর । শিকারে গিয়েছিলে, হঠাৎ ফিরে এলে যে ? ভাল লাগলো না । না লাগ-বারই কথা । কি নিষ্ঠুর এই পুরুষমানুষ জাতট। অনর্থক জীবহত্যা ক’রে কি আমোদ পায়, তা তারাই জালে। বাবা ভাল আছেন ? বাবা মারা গেছেন । মারা গেছেন ! মা ? তিনি আগেই গেছেন । ও—তাইতেই, বলিয়া বাইজী একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিয়া আমার মুখপানে চাহিয়া রহিল । একবার মনে হইল তাহার চোখ দুটি যেন ছল-ছল করিয়া উঠিল। কিন্তু সে হয়ত আমার মনের ভুল। পরক্ষণেই যখন সে কথা কহিল, তখন আর ভুল রহিল না যে, এই মুখরা নারীর চটুল ও পরিহাস-লঘু কণ্ঠস্বর সত্যসত্যই মৃদু ও আর্দ্র হইয়া গিয়াছে। কহিল, তা হ'লে যত্নটত্ব করবার আর কেউ নেই বল । পিসীমার ওখানেই অাছ ত ? নইলে আর থাকুবেই বা কোথায় ? বিয়ে হয়নি সে ত দেখতেই পাচ্ছি। পড়াশুনা করচ ? না তাও ঐ সঙ্গে শেষ ক’রে দিয়েচ ? এতক্ষণ পর্যন্ত ইহার কৌতুহল এবং প্রশ্নমালা আমি যথাসাধ্য সহ করিয়া গিয়াছি। কিন্তু এই শেষ কথাটা কেমন যেন হঠাৎ অসহ্য হইয়া উঠিল। বিরক্ত এবং রুক্ষকণ্ঠে বলিয়া উঠিলাম, আচ্ছা, কে তুমি ? তোমাকে জীবনে কখনো দেবেচি ব’লেও ত মনে হয় না। আমার সম্বন্ধে এত কথা তুমি জানতে চাইচই বা কেন ? আর “জেনেই বা লাভ কি ? ግመ