প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্রীকান্ত বাইজী রাগ করিল না, হাসিল ; কহিল, লাভ-ক্ষতিই কি সংসারে সব ? মায়া, মমত, ভালবাসাটা কি কিছু নয় ? আমার নাম পিয়ারী, কিন্তু, আমার মুখ দেখেও যখন চিনতে পারলে না, তখন ছেলেবেলার ডাকনাম শুনেই কি আমাতে চিনতে পারবে ? তা ছাড়া আমি তোমাদের–ও-গ্রামের মেয়েও নই। আচ্ছ, তোমাদের বাড়ি কোথায় বল ? না, সে আমি বলব না। তবে তোমার বাবার নাম কি বল ? - বাইজী জিভ কাটিয়া কহিল, তিনি স্বর্গে গেছেন । ছি-ছি, তার নাম কি আর এ মুখে উচ্চারণ করতে পারি ? আমি অধীর হইয়া উঠিলাম। বলিলাম, তা যদি না পারে, আমাকে চিন্‌লে কি ক’রে সে কথা বোধ হয় উচ্চারণ করতে দোষ হবে না ? পিয়ারী আমার মনের ভাব লক্ষ্য করিয়া আবার মুখ টিপিয়া হাসিল। কহিল, না, তাতে দোষ নাই । কিন্তু সে কি তুমি বিশ্বাস করতে পারবে ? বলেই দেখ না । পিয়ারী কহিল, তোমাকে চিনেছিলাম ঠাকুর, দুৰ্ব্ব,দ্ধির তাড়ায়—আর কিসে ? তুমি যত চোখের জল আমার ফেলেছিলে, ভাগ্য স্থষ্যিদেব তা শুকিয়ে নিয়েচেন, নইলে চোখের জলের পুকুর হয়ে থাকতো। বলি বিশ্বাস করতে পারো কি ? সত্যই বিশ্বাস করিতে পারিলাম না । কিন্তু সে আমারই ভুল। তখন কিছুতেই মনে পড়িল না যে, পিয়ারীর ঠোঁটের গঠনই এইরূপ—যেন সব কথাই সে তামাসা করিয়া বলিতেছে, এবং মনে মনে হাসিতেছে। আমি চুপ করিয়া রছিলাম। সেও কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া এবার সত্য সত্যই হাসিয়া উঠিল। কিন্তু এতক্ষণে কেমন করিয়া জানি না, আমার সহসা মনে হইল, সে নিজের লজ্জিত অবস্থা যেন সামলাইয়া ফেলিল । সহাস্তে কহিল, না ঠাকুর, তোমাকে যত বোকা ভেবেছিলাম, তুমি তা নও। এ যে আমার একটা বলার ভঙ্গি, তা তুমি ঠিক ধরে । কিন্তু তাও বলি, তোমার চেয়ে অনেক বৃদ্ধিমানও আমার এই কথাটায় অবিশ্বাস করতে পারেনি। তা এতই যদি বুদ্ধিমান, মোসাহেবী ব্যবসাটা ধরা হ’ল কেন ? এই চাকরি ত তোমাদের মত মানুষ দিয়ে হয় না। যাও, চটুপট স’রে পড় । ক্রোধে সৰ্ব্বাঙ্গ জলিয়া গেল ; কিন্তু প্রকাশ পাইতে দিলাম না । সহজভাবে বলিলাম, চাকরি যতদিন হয়, ততদিনই ভাল । বসে না থাকি বেগার খাটিজান ত? আচ্ছ, এখন উঠি । বাইরের লোক হয় ত বা কিছু মনে ক'রে বসবে। ৭১