প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৮৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* ঐকান্ত হবে না । তেমনি একগুঁয়ে হয়ে চিরকালট কাটাবে ? কই, ষাও দিকি কেমন করে যাবে, আমিও তা হ’লে সঙ্গে যাবো, বলিয়। সে শালখানা কুড়াইয়া লইয়া নিজের গায়ে জড়াইবার উপক্রম করিল। আমি সংক্ষেপে কহিলাম, বেণ, চল! আমার এই প্রচ্ছন্ন বিদ্রুপে জলিয়। উঠিয়৷ পিয়ারী বলিল, আহা ! দেশ-বিদেশে তা হ’লে মুখ্যাতির আর সীমা-পরিসীমা থাকৃবে না ! বাৰু শিকারে এসে একটা বাইউলি সঙ্গে করে দুপুর রাত্রে ভূত দেখতে গিয়েছিলেন। বলি, বাড়িতে কি একেবারে আউট হয়ে গেছ নাকি ? ঘেন্না-পিত্তি লজ্জা-সরম আর কিছু দেহতে নেই, বলিতে বলিতেই তাহার তীব্র কণ্ঠ ভিজিয়া যেন ভারী হইয়া উঠিল ; কহিল, কখনো ত এমন ছিলে না। এত অধঃপথে তুমি যেতে পারে, কেউ ত কোন দিন ভাবেনি। তাহার শেষ কথাটায় অন্য কোন সময়ে আমার বিরক্তির হয়ত অবধি থাকিত না, কিন্তু এখন রাগ হইল না। মনে হইল পিয়ারীকে যেন চিনিয়াছি । কেন যে মনে হইল, তাহা পরে বলিতেছি । কহিলাম, লোকের ভাবাভাবির দাম কত, সে নিজেও ত জান ? তুমিই যে এত অধঃপথে যাবে, সেই ব৷ ক’জন ভেবেছিল ? মুহূৰ্ত্তের জন্য পিয়ারীর মুখের উপর শরতের মেঘলা জ্যোৎস্নার মত একটা সহজ হাসির আভা দেখা দিল। কিন্তু সে ঐ মুহুর্তের জন্তই। পরক্ষণেই ভীতস্বরে কহিল, আমার তুমি কি জানো ? কে আমি, বল ত দেখি ? তুমি পিয়ারী। সে ত সবাই জানে । - সবাই যা জানে না, তা আমি জানি—শুনলে কি তুমি খুশী হবে ? হ’লে ত নিজেই তোমার পরিচয় দিতে। যখন দা গুনি তখন আমার মুখ থেকেও কোন কৰা পাবে না । এর মধ্যে ভেবো দেখো, আত্মপ্রকাশ করবে কি না । কিন্তু এখন আর সময় নেই-আমি চললাম । r» পিয়ারী বিদ্যুৎগতিতে পথ আগলাইয়া দাড়াইয়া কহিল, যদি যেতে না দিই, জোর করে যেতে পার ? কিন্তু যেতেই বা দেবে না কেন ? পিয়ারী কহিল, দেবই বা কেন ? সত্যিকারের ভূত কি নেই, যে তুমি স্বাবে বললেই যেতে দেব ? মাইরি, আমি চেচিয়ে হাট বাধাব-ত বলে দিচ্চি, বলিয়াই আমার বন্ধুকটা কাড়িয়া লইবার চেষ্টা করিল। আমি এক-পা পিছাইয়া গেলাম। কিছুক্ষণ হইতেই আমার বিরক্তির পরিবর্তে হাসি পাইতেছিল। এবার হাসিয়া ফেলিয়া বলিলাম, সত্যিকারের ভূত আছে কি না জানি না, কিন্তু ፃቕ