পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (প্রথম সম্ভার).djvu/৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐীকান্ত অপমান কর না কেন, রাজলক্ষ্মী তোমাকে যে ফেলে যেতে পারবে না-এ কি আর তুমি মনে মনে বোঝে না ? কিন্তু ফেলে যেতে পারলেই ভালে৷ হ’তো । তোমাদের একটা শিক্ষা হ’তে । কিন্তু কি বিত্র এই মেয়েমানুষ জাতটা, একবার যদি ভালোবেসেচে, ত মরেচ । আমি বলিলাম, পিয়ারী, ভালো সন্ন্যাসীতেও ভিক্ষা পায় না, কেন জানো ? পিয়ারী বলিল, জানি । কিন্তু তোমার এ খোচায় এত ধার নেই যে, আমাকে বেঁধে ! এ আমার ঈশ্বরদত্ত ধন ! যখন সংসারের ভাল-মন্দ জ্ঞান পৰ্য্যন্ত হয়নি, তখনকার ; আজকের নয়। অামি নরম হইয়া বলিলাম, বেশ কথা। আশা করি, আমার আজ একটা কিছু হবে । হ’লে তোমার ঈশ্বরদত্ত ধনের হাতে হাতে একটা যাচাই হয়ে যাবে। BB BBBS BBS BBS BS ggB BBS BBB BS BBBSBBB BB এলো—এ সত্যি আর যাচাই করে কাজ নেই। আমার কি সেই কপাল যে, নিজের হাতে নেড়ে-চেড়ে সেবা ক’রে, দু:সময়ে তোমাকে মুস্থ, সবল করে তুলব! তা হ’লে ত জানতুম, এ জন্মের একট। কাজ করে নিলুম। বলিয়া সে যে মুখ ফিরাইয়া অশ্র গোপন করিল, তাহা হারিকেনের ক্ষীণ আলোতেও টের পাইলাম। আচ্ছা, ভগবান তোমার এ সাধ হয়ত একদিন পূর্ণ ক’রে দেবেন, বলিয়া আমি আর দেরি না করিয়া, তাবুর বাহিরে আসিয়া পড়িলাম। তামাসা করিতে গিয়া যে মুখ দিয়া একটা প্রচণ্ড সত্য বাহির হইয়া গেল সে কথা তখন আর কে ভাবিয়াছিল ? - র্তাবুর ভিতর হইতে অশ্র-বিকৃত কণ্ঠের দুর্গা! দুৰ্গা! নামের সকাতর ডাক কানে আসিয়া পৌছিল ! আমি দ্রুতপদে শ্মশানের পথে প্রস্থান করিলাম। সমস্ত মনটা পিয়ারীর কথাতেই আচ্ছন্ন হইয়া বুহিল । কখন যে আমবাগানের দীর্ঘ, অন্ধকার পথ পার হইয়া গেলাম, কখন নদীর ধারের সরকারী বাধের উপর আসিয়া পড়িলাম, জানিতেই পারিলাম না। সমস্ত পথটা শুধু এই একটা কথাই ভাবিতে ভাবিতে আসিয়াছি-এ কি বিরাট অচিন্তনীয় ব্যাপার এই নারীর মনটা । কবে যে এই পিলেরোগা মেয়েট তাহার ধামার মত পেট এবং কাঠির মত হাত-পা লইয়া আমাকে প্রথম ভালবাসিয়াছিল, এবং বঁইচি ফলের মালা দিয়া তাহার দরিদ্র পূজা নীরবে সম্পন্ন করিয়া আসিতেছিল, আমি টেরও পাই নাই। যখন টের পাইলাম তখন বিস্ময়ের অবধি রহিল না। বিস্ময় সে জন্যও নয়। নভেল-নাটকেও বাল্যপ্রণয়ের কথা অনেক পড়িয়াছি। কিন্তু এই বস্তুটি, যাহাকে সে তাহার ঈশ্বরদত্ত ধন বলিয়া সগৰ্ব্বে প্রচার করিতেও কুষ্ঠিত হইল না, তাহাকে সে এতদিন তাহার এই ס\ל