প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১০২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ সাহস হচ্ছে না । কিন্তু আজ আমি তোমাকে স্পষ্ট করেই জিজ্ঞাসা করতে চাই, আমার বাবা কি তোমার কাছে এত তুচ্ছ হয়ে গেছেন যে তার সাংঘাতিক অস্বখের খবরটাতে তুমি কান দেওয়া আবণ্ঠক মনে কয় না। মহিম ঘাড় নাড়িয়া বলিল, খুবই করি । কিন্তু যেখানে সে আবশ্যক নেই, সেখানে আমাকে কি করতে বল ? অচলা কহিল, কোনখানে আবশ্বক নেই শুনি ? মহিম ক্ষণকাল স্ত্রীর মুখের প্রতি নিঃশব্দে চাহিয়া থাকিয়া সহসা কঠোরকণ্ঠে বলিয়া ফেলিল, যেমন এইমাত্র সুরেশের ছিল না। আর যেমন এ নিয়ে তোমারও এতখানি রাগারগি করে আমার মুখ থেকে কড়া কথা টেনে বার করার প্রয়োজন ছিল না। যাক, আর না । যায়, তলায় পাক আছে, তার জল ঘূলিয়ে তোলা আমি বুদ্ধির কাজ মনে করিনে। বলিয়া মহিম বাহির হইয়া যাইতেছিল, আচল ক্রতপদে সম্মুখে আসিয়া পথ আটকাইয়া দাড়াইল। ক্ষণকাল সে দাত দিয়া সজোরে অধর চাপিয়া রহিল , ঠিক যেন একটা আকস্মিক দুঃসহ আঘাতের মর্শ্বাস্তিক চীৎকার সে প্রাণপণে রুদ্ধ করিতেছে মনে হইল। তারপরে কহিল, তোমার বাইরে কি বিশেষ জরুরী কোন কাজ আছে ? তুমিনিট অপেক্ষা করতে পারবে না ? মহিম বলিল, তা পারব। অচলা কহিল, তা হলে কথাটা স্পষ্ট হয়েই যাক। জল যখন সরে আসে, তখনই পাকের খবর পাওয়া যায়, এই না ? মহিম ঘাড় নাড়িয়া কহিল, ই ৷ অচলা বলিল, নিরর্থক জল ঘুলিয়ে তোলার আমিও পক্ষপাতী নই, কিন্তু সেই ভয়ে পঙ্কোদ্ধারটাও বন্ধ রাখা কি ভাল ? একদিন যদি ঘোলায় ত ঘোলাক না, যদি বরাবরের জন্তে পাকের হাত থেকে নিস্তার পাওয়া যায়। কি বল ? মহিম কঠিনভাবে কহিল, আমার আপত্তি নেই, কিন্তু তার চেয়ে ঢের বেশী দরকারি কাজ আমার পড়ে রয়েচে—এখন সময় হবে না । অচলা ঠিক তেমনি কঠিন-কণ্ঠে জবাব দিল, তোমার এই ঢের বেশি দরকারি কাজ সারা হয়ে গেলে ফুরন্ধত হবে ত ? ভাল, ততক্ষণ আমি না হয় অপেক্ষা করেই রইলুম। বলিয়া পথ ছাড়িয়া সরিয়া দাড়াইল । মহিম ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল । যতক্ষণ তাহাকে দেখা গেল, ততক্ষণ পৰ্য্যন্ত সে স্থির হইয়া দাড়াইয়া রছিল, তাহার পরে কপাট বন্ধ করিয়া দিল । ঘন্ট-খানেক পরে যখন স্বান করিবার প্রসঙ্গ লইয়া বাহিরে স্বরেশের ঘরে আসিয়া দাড়াইল, তখন তাহার মুখের প্রাপ্ত শোকাচ্ছন্ন চেহারা স্বরেশ চোখ তুলিবামাৰ