প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১০৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ তাহারি মুখের উপর গাঢ়তর হইয়া উঠিতেছে । আজ সকালবেলার পরে মহিম আর বাটীর বাহির হয় নাই, সুতরাং দিনের বেলায় ভাত খাওয়া হইতে শুরু করিয়া রাত্রির লুচি খাওয়া পৰ্য্যন্ত প্রায় সমস্ত সময়টাই এইভাবে কাটিয়া গেল । অনেক রাত্রি পর্যন্ত বিছানার উপর ছটফট করিয়া অচলা ধীরে ধীরে কহিল, সারারাত্রি আলো জেলে পড়লে আর একজন ঘুমোতে পারে না । তোমার কাছে এটুকু দয়াও কি আর আমি প্রত্যাশা করতে পারিনে ? ' তাহার কণ্ঠস্বরে মহিম চমকিয়া উঠিয়া এবং তাড়াতাড়ি বাতিটা নামাইয়া দিয়া কহিল, অন্যায় হয়ে গেছে, আমায় মাপ করে । বলিয়া বই বন্ধ করিয়া আলো নিবাইয়া দিয়া শয্যায় আসিয়া গুইয়া পড়িল । এই প্রার্থিত অনুগ্রহলাভের জন্য অচলা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিল না, কিন্তু ইহা তাহার নিদ্রার পক্ষেও লেশমাত্র সাহায্য করিল না। বরঞ্চ যত সময় কাটিতে লাগিল, এই নিঃশব্দ অন্ধকার যেন ব্যথায় ভারী হইয়া প্রতি মুহুর্তেই তাহার কাছে দুঃসহ হইয়া উঠিতে লাগিল । আর সহিতে না পারিয়া এক সময়ে সে আস্তে আস্তে জিজ্ঞাসা করিল, আচ্ছ, জ্ঞানে হোক, অজ্ঞানে হোক, সংসারে ভুল করলেই তার শাস্তি পেতে হয়, এ-কথা কি সত্যি ? মহিম অত্যন্ত সহজভাবে জবাব দিল, অভিজ্ঞ লোকেরা তাই ত বলেন । অচলা পুনরায় কিছুক্ষণ নীরবে থাকিয়া কহিল, তবে যে ভুল আমরা দু’জনেষ্ট করেচি, যার কুফল গোড়া থেকেই শুরু হয়েচে, তার শেষ ফলট কি-রকম দাড়াবে তুমি আন্দাজ করতে পাবো ? মহিম কহিল, না । অচলা কহিল, আমিও পারিনে । কিন্তু ভেবে ভেবে আমি এটুকু বুঝেচি যে, আর সমস্ত ছেড়ে দিলেও শুধু পুরুষমানুষ বলেই এই শাস্তির বেশি ভার পুরুষের বহা উচিত। মহিম বলিল, আরও একটু ভাবলে দেখতে পাবে, মেয়েমানুষের বোঝা তাতে এক তিল কম পড়ে না । কিন্তু পুরুষটি কে ? আমি, না স্বরেশ ? অচল যে শিহরিয়া উঠিল, অন্ধকারের মধ্যেও মহিম তাহ অঙ্গভব করিল। ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া অচল ধীরে ধীরে কহিল, তুমি যে একদিন আমাকে মুখের ওপরেই অপমান করতে শুরু করবে, এ আমি ভেবেছিলুম। আর এও জানি, এ জিনিস একবার আরম্ভ হলে কোথায় যে শেষ হয়, তা কেউ বলতে পারে না ; কিন্তু আমি ঝগড়া করতেও পারব না, কিংবা বিয়ে হয়েচে বলেই ঝগড়া করে তোমার ঘর করতেও পারব না । কাল হোক, পরস্ত হোক, আমি বাবার ওখানে ফিরে যাবো ।