প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रृंश्षांश् স্বরেশ চোখ তুলিয়া কহিল, পাগলামি কিসের ? তুমি যাবে না ? না ! কেন যাবে না ? আমি কি তোমার কেউ নই? আমার বাড়ি যাওয়ায় কি তোমার অপমান হবে ? নী । তবে ? মহিম কহিল, সুরেশ, তুমি আমার বন্ধু । এমন বন্ধু আমার আর নেই ; সংসারে এমন আর কয়জনের আছে, তাও জানি না। এতকাল পরে এ বস্তু আমি একটুখানি দেহের আরামের জন্য খুইয়ে বসব, আমাকে কি তুমি এত বড়ই নিৰ্ব্বোধ পেয়েচ ? সুরেশ কহিল, বন্ধুত্ব জিনিসটি তোমার ত একার নয় মহিম । আমার ও ত তাতে একটা ভাগ আছে । খোয়া যদি যায়, সে ক্ষতি যে কত বড়, সে বোঝবার সাধ্য আমার নেই--আমি কি এতই বোকা ? আর এত সতর্ক-সাবধান, এত হিসাবপত্র করে না চললেই এ বন্ধুত্ব যদি নষ্ট হয়ে যায় ত যাক ন মহিম! এমনই কি তার মূল্য যে, সেজন্য শরীরের আরামটাকে উপেক্ষ করতে হবে ? , মহিম হাসিয়া বলিল, না, এবর হেরেচি ৷ কিন্তু একটা কথা তোমাকে নিশ্চয় জানাচ্ছি সুরেশ । তুমি মনে করেচ–সখ করে দুঃখ সইতে আমি এসেচি, তা সত্য নয় । সুরেশ কহিল, বেশ ত সত্য নাই হ’ল । আমি কারণ জানতেও চাই না–কিন্তু যদি টাকা বঁাচানই তোমার উদ্দেশ্য হয়, আমাদের বাড়িতে এসে থাক না, তাতে ত তোমার উদ্দেশু মাটি হয়ে যাবে না ? মহিম ঘাড় নাড়িয়া সংক্ষেপে কহিল, এখন থাক সুরেশ । কষ্ট যদি সত্যি হয়, তোমাকে জানাব ! সুরেশ জানিত, মহিমকে তাহার সঙ্কল্প হইতে টলান অসাধ্য। সে আর জিদ না করিয়া একরকম রাগ করিয়াই চলিয়া গেল ; কিন্তু বন্ধুর এই থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থাটা চোখে দেখিয়া তাহার মনের মধ্যে স্থচ বিধিতে লাগিল । সুরেশ ধনীর সন্তান, এবং মহিমকে সে অকপটে ভালবাসিত। তাহার অন্তরের আকাজক্ষা, কোনমতে সে বন্ধুর একটা কাজে লাগে । কিন্তু মহিমকে সে কোনদিন সাহায্য লইতে স্বীকার করাইতে পারে নাই--আজিও পারিল না।