প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৩১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रेहनोह এইভাবে দিন কাটিতেছিল। কিন্তু হঠাৎ একদিন তিনি অত্যন্ত অস্থখে পড়িয়৷ গেলেন। স্বরেশ আসিয়া চিকিৎসা করিয়া এবং নিজ পুত্রাধিক সেবাযত্ন করিয়া র্তাহাকে আরোগ্য করিয়া তুলিল। তিনি স্বয়ং ঋণের উল্লেখ করিলে, সে তাহ বন্ধুকে যৌতুক দিয়াছে বলিয়া হাসিয়া উড়াইয়া দিল । সেই অবাধ এই যুবকটির প্রতি র্তাহার স্নেহ প্রতিদিন গভীর ও অকৃত্রিম হইয়া উঠিতে লাগিল । এমন কি, সময়ে সময়ে কন্যার বিরুদ্ধে তাহার মনের মধ্যে অভিশাপের ন্যায় উদয় হইত যে, দুর্ভাগ মেয়েট এমন বৃত্ব চিনিল না, উপেক্ষা করিয়া ত্যাগ করিয়া গেল, সে যেন একদিন ইহার শাস্তি ভোগ করে । এই ব্যাপারে মহিম তাহার দু’চক্ষের বিধ হইয়া গিয়াছিল সত্য, কিন্তু তাই বলিয়া তাহার কন্যা যে নারীধৰ্ম্ম জলাঞ্জলি দিয়া স্বামী ত্যাগের গভীর দুষ্কৃতি সৰ্ব্বাঙ্গে বহিয়া তাহারই গৃহে আসিয়া উঠিবে, ইহা তিনি স্বপ্নে ও ভাবেন নাই ; এবং এই মহাপাপে যে ব্যক্তি সাহায্য করিয়াছে, সে যত বড় হোক, পিতার মনের ভাব, যে তাহার বিরুদ্ধে কিরূপ বাকিয়া দাড়াইবে, ইহাও অনুমান করা কঠিন নহে । r. অন্তপক্ষে, পিতার প্রতি কন্যার মনোভাব পূৰ্ব্বে যেমনি থাক, সেদিন তিনি শুদ্ধমাত্র টাকার লোভেই মহিমকে বর্জন করিয়া স্বরেশের হাতে তাহাকে সমর্পণ করিতে বদ্ধপরিকর হইয়াছিলেন, এবং পরিশোধের কোন উপায় না থাকা সত্ত্বেও তাহার কাছে ঋণ গ্রহণ করিয়াছিলেন, সেদিন হইতে মানুষ হিসাবে কেদারবাবু অচলার চক্ষে অত্যন্ত নামিয়া গিয়াছিলেন। কিন্তু সেই অশ্রদ্ধা শতগুণে বাড়িয়া গিয়াছিল কাল রাত্রে, যখন সে স্বকৰ্ণে শুনিতে পাইল, তিনি নিজের কন্যার চরিত্র সম্বন্ধে গোপনে দাসীর মতামত গ্রহণ করিতেও সঙ্কোচ ৰোধ করিলেন না। কিন্তু সেই সঙ্গে অচলা আজ আপনাকেও দেখিতে পাইল । তাহার সর্বাঙ্গ রোমাঞ্চিত হইয়া চোখে পড়িল, যে মুহূর্তে সে স্বামীকে নিজের মুখে বলিয়াছে, তাহাকে সে ভালবাসে না, সেই মুহূর্তেই নারীর সৰ্ব্বোত্তম মর্য্যাদাও জগৎসংসার হইতে তাহার জন্য মুছিয়া গিয়াছে। তাই আজ সে স্বামীর কাছে ছোট, পিতার কাছে ছোট, নিজের পরিচারিকার কাছে ছোট, এমন কি, সেই মুরেশের মত লোকের চক্ষেও আজ সে এত ছোট যে, তাহাকে লালসার সঙ্গিনী কল্পনা করাও তাহার পক্ষে আর দুরাশা নয়। কিন্তু সত্যই কি সে তাই ? এমন ছোট ? এই ত সেদিন সে যাহার ভালবাসাকেই সৰ্ব্বজয়ী করিতে সমস্ত বিরোধ, সমস্ত প্রলোভন পায়ে দলিয়া উত্তীর্ণ হইয়া গিয়াছিল, আজ ইহারই মধ্যে সে কথা কি সবাই ভুলিয়াছে ? তাহাকে স্বরেশের সঙ্গে পাঠাইয়া দিয়াও স্বামী তাহার কোন সংবাদ লইলেন না। এই ঔদাসীন্তের নিগূঢ় অপমান ও লাছনা তাহাকে সমস্ত বাজি যেন আগুন দিয়া পোড়াইতে जॉनिका । - şae