প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৮৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रृंश्कोइ ছপুরবেলা দাসী মুরেশের বাট হইতে সংবাদ চইয়া ফিরিয়া আসিয়া জানাইল, র্তাহার পিসিমা কিছুই জানেন না। কোন চিঠিপত্র না পাইয়া তিনিও অত্যন্ত চিস্তিত আছেন। রাত্রে নিভৃত শয়ন-কক্ষে কেদারবাবু প্রদীপের আলোকে আর একবার মৃণালের পত্ৰখানা লইয়া বসিলেন । ইহার প্রতি অক্ষর তন্ন তয় করিয়া আলোচনা করিতে লাগিলেন, যদি দাড়াইবার মত কোথাও এতটুকু জায়গা পাওয়া যায়। না হইলেও যে তিনি কোথায় গিয়া কি করিয়া মুখ লুকাইবেন, ইহা জানিতেন না। চিরদিন পুরুষাঙ্কফ্রমে কলিকাতাবাসী ; কলিকাতার বাহিরে কোথাও যে কোন ভদ্রলোক বাচিতে পারে, এ-কথা তিনি ভাবিতে পাবিতেন না । সেই আজন্মপরিচিত স্থান, সমাজ, চিরদিনের বন্ধু-বান্ধব সমস্ত হইতে বিচ্যুত হইয়া কোথাও অজ্ঞাতবাসে যদি শেষ জীবনটা অতিবাহিত করিতেই হয়, তবে সেই দুঃসহ দুর্ভর দিন-কয়টা যে কি করিয়া কাটিবে সে র্তাহার চিন্তার অতীত এবং কন্যা হইয়া যে দুর্ভাগিনী এই শাস্তির বোঝা তাহার রুগ্ন বৃদ্ধ পিতার অশক্ত শিরে তুলিয়া দিল, তাহাকে যে তিনি কি বলিয়া অভিশাপ দিবেন, তাহাও চিস্তার অতীত । সারারাত্রির মধ্যে তিনি একবার চোখে-পাতায় করিতে পারিলেন না এবং ভোর নাগাদ তাহার অম্বলের ব্যথাটা আবার দেখা দিল ; কিন্তু আজ যখন নিজের বলিয়া মুখ চাহিতে দুনিয়ার আর কাহাকেও খুজিয়া পাইলেন না, তখন নিজীবের মত শয্যাশ্রয় করিয়া পড়িয়া থাকিতেও তাহার ঘৃণা বোধ হইল। এতবড় বেদনাকেও আজ তিনি শাস্তমুখে লুকাইয়া অন্তদিনের মত বাহিরে আসিলেন এবং রেলওয়ে স্টেশনের জন্য গাড়ি ডাকিতে পাঠাইয়া তাড়াতাড়ি জামা-কাপড় গুছাইয়া লইতে ৰেয়ারাকে আদেশ করিলেন । ל 9\ শীতের সূৰ্য্য অপরাহ্লবেলায় ঢলিয়া পড়িবার উপক্ৰম করিতেছিল, এবং তাহারই ঈষত্তপ্ত কিরণে শোননদের পার্শ্ববর্তী স্থদুর বিস্তীর্ণ বালু-মর ধূ-ধূ করিতেছিল। এমনি সময়ে একটা বাঙলোবাটীর বারান্দায় রেলিঙ ধরিয়া অচলা সেইদিকে চাহিয়া চুপ করিয়া দাড়াইয়া ছিল। তাহার নিজের জীবনের সঙ্গে ওই দম্ব মরুখণ্ডের কোন ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল কি না, সে অন্ত কথা, কিন্তু ঐ দুটি অপলক চক্ষুর প্রতি পলকমাত্র দৃষ্টিপাত করিলেই বুঝা যাইতে পারিত যে, তেমন করিয়া চাহিয়া থাকিলে দেখা কিছুই যায় না, কেবল সমস্ত সংসার একটা বিচিত্র ও বিরাট ছায়াবাজির মত ॐथंजैौश्चक्षiन श्च । >{t