প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/১৯১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গৃহদাহ বাল্যই আমিও দূর হয়ে যাবো–এবার বুঝলে না ভাই দিদিমণিটি। বলিয়া সম্বীর কপোলের উপর দুটি আঙুলের একটু চাপ দিয়াই দ্রুতবেগে দাসীর অনুসরণ করিয়া চলিয়া গেল । একটুকরা আনন্দ, খানিকটা দক্ষিণা হাওয়ার মত এই সৌভাগ্যবতী তরুণী লঘুপদে দৃষ্টির বাহিরে অপস্থত হইয়া গেল, কিন্তু তাহার কানে বলা শেষ কথা ছুটি অচলা দুই কানের মধ্যে লইয়া সেইখানে পাষাণ-স্মৃত্তির মত স্তৰ হইয়া বলিয়। রহিল। আজিকার রাত্রি এবং কল্যকার দিনটা মাত্র বাকী । তাহার পরে জার কোন বাধা, কোন বিশ্ন নাই—এই নির্জন নীরব পুরীর মধ্যে—কাছে এবং দূরে তাহার যতদূর দৃষ্টি যায়—ভবিস্তুতের মধ্যে চোখ মেলিয়া দেখিল—কেবল একাকী এবং কেবলমাত্র স্বরেশ ব্যতীত আর কিছুই তাহার দৃষ্টগোচর হইল না । ৩২ এই জনহীন পুরীর মধ্যে কেবলমাত্র স্বরেশকে লইয়া জীবনযাপন করিতে হইবে এবং সেই দুদিন প্রতি মুহূৰ্ত্তে আসন্ন হইয়া আসিতেছে। বাধা নাই, ব্যবধান নাই, : লজ্জা নাই—আজ নয় কাল বলিয়া একটা উপলক্ষ্য স্বাক্ট করিবার পর্য্যস্ত সুযোগ মিলিবে না । বীণাপাণি বলিয়াছিল, স্বরমাদিদি, শ্বশুর-শ্বর আপনার ঘর, সেখানে ছোট হয়ে যেতে মেয়েমানুষের কোন সরম নেই । . হার রে, হায় ! তাহার কে আছে, আর কি নাই, সে জমা-খরচের হিসাব তাহার অন্তর্যামী ভিন্ন আর কে রাখিয়াছে ? তথাপি আজও তাহার আপনার স্বামী আছে এবং আপনার বলিতে সেই তাহদের পোড়া ভিটাটা এখনও পৃথিবীর অঙ্ক হইতে লুপ্ত হইয়া যায় নাই। আজিও সে একটা নিমিষের তরেও তাহার মাঝখানে গিয়া দাড়াইতে পাৱে। আবদ্ধ পণ্ডর চোখের উপর হইতে যতক্ষণ না এই বাহিরের ফাকটা একেবারে আবৃত হইয়া যায়, ততক্ষণ পর্য্যন্ত যেমন সে একই স্থানে বারংবার মাথ ফুটিয়া মরিতে থাকে, ঠিক তেমনি করিয়াই তাহার অবাধ্য মনের প্রচও কামনা তাহার বক্ষের মধ্যে হাহাকার করিয়া বাহিরের জন্ত পথ খুজিয়া মরিতে লাগিল। পার্থের ঘরে স্বরেশ নিরুদ্বেগে নিদ্রিত, মধ্যের দরজাটা ঈষৎ উন্মুক্ত এবং তাহারই একধারে মেঝের উপর যান্থর পাতিয়া আপনার আপাদ-মস্তক কালে ঢাকিয়া হিন্দুস্থানী দাসী অকাতরে ঘুমাইতেছে। সমস্ত বাটার মধ্যে কেহ ৰে জাগিয়া আছে, তাহার জাভাল ة ونهج