প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ একমুহূর্তে বিন্দু আগুনের মত জলিয়া উঠিয়া বলিল, কেন দিলে ? গায়ে হাত তুলতে আমি মানা করে দিয়েচি না ? নরেন হাত নাড়িয়া বলিল, তার দোষ কি মামী, সে নূতন লোক। আমাদের চাকর এই হেবো শালাই বজাত, সে এসে মাকে বলেচে । আমার মা-টিও কম বজাত নয় মামী, সে মাস্টারকে বলে দিতে বলে দিয়েছে, থার্ডমাস্টার অমনি আচ্ছাসে কান মলেচে—কি রকম করে জান মামী—এই রকম করে ধরে— বিন্দু তাহাকে তাড়াতাড়ি থামাইয়া বলিল, হেবো কি বলে দিয়েচে ? নরেন বলিল, কি জানি মামী, হেবো টিফিনের সময় আমার খাবার নিয়ে যায় ত, সে ছুটে গিয়ে বলে কি খাবার দেখি নরেনদা ? মা শুনে বলে, অমূল্য নজর দেয় । অমূল্যর কেউ খাবার নিয়ে যায় না ? নরেন কপালে হাত ঠেকাইয়া বলিল, কোথা পাবে মামী, তারা গরীব-মানুষ, সে পকেটে করে দুটি ছোলা-ভাজা নিয়ে যায়, তাই টিফিনের সময় ওদিকের গাছতলায় মুকিয়ে বসে খায় । বিন্দুর চোখের উপর ঘরবাড়ি সমস্ত সংসার দুলিতে লাগিল ; সে সেইখানে বসিয়া পড়িয়া বলিল, নরেন তুই যা। সেরাত্রে অনেক ডাকাডাকির পর বিন্দু থাইতে বসিয়া কোনমতেই হাত মুখে তুলিতে পারিল না, শেষে অস্থখ করিতেছে বলিয়া উঠিয়া গেল। পরদিনও প্রায় উপবাস করিয়া পড়িয়া রহিল, অথচ, কাহাকেও কোন কথা বলিতেও পারিল না, একটা উপায়ও খুজিয়া পাইল না । তাহার কেবল ভয় করিতে লাগিল, পাছে কথা কহিলেই তাহার নিজের অপরাধ আরও বাড়িয়া যায় । অপরাহ্লে স্বামীর আহারের সময় অভ্যাসমত কাছে গিয়া বসিয়া অন্যদিকে চাহিয়া রহিল। কোনরূপ ভোজ্য পদার্থের দিকে কাল হইতে সে চাহিয়া দেখিতেও পারিল না । ঘরে বাতি জলিতেছে, মাধব নিৰ্মীলিত চোখে চুপ করিয়া পড়িয়াছিল, বিন্দু আসিয়া পায়ের কাছে বসিল । মাধব চাহিয়া দেখিয়া বলিল, কি ? বিন্দু নতমুখে স্বামীর পায়ের একটা আঙুলের নখ খুটিতে লাগিল। মাধৰ স্ত্রীর মনের কথাটা অকুমান করিয়া লইয়া আদ্র হইয়া বলিল, সমস্তই বুঝি বিন্দু, কিন্তু আমার কাছে কঁদিলে কি হবে । তার কাছে যাও। বিন্দু সত্যই কাদিতেছিল, বলিল, তুমি যাও। আমি গিয়ে তোমার কথা বলব, দাদা শুনতে পাবেন না ? אצט\