প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিন্দুর ছেলে যাদব ব্যস্ত হইয়া হকাটা রাখিয়া দিয়া বললেন, আজ মনটা বড় খারাপ বড়বে, কাল রাত্রে আমার মা যেন ঐ দোরের আড়ালে এসে দাড়িয়েছিলেন। দুৰ্গা! দুর্গ ! বলিয়া তিনি বাহির হইয়া পড়িলেন । সকালবেলা অন্নপূর্ণ ক্লান্তভাবে রান্নাঘরে কাজ করিতেছিল, ও বাড়ির চাকর আসিয়া সংবাদ দিল, বাবু কাল রাত্রে ফরাসডাঙ্গায় চলে গেছেন—মা’র নাকি বড় ব্যামো । স্বামীর কথাটা স্মরণ করিয়া অন্নপূর্ণার বুক কাদিয়া উঠিল—কি ব্যামো ? চাকর বলিল, তা জানিনে মা, শুনলুম কি-রকম অজ্ঞান-টজ্ঞান হয়ে কি-রকম শক্ত অমুখ হয়ে দাড়িয়েচে । সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরিয়া আসিয়া যাদব খবর শুনিয়া কাদিয়া ফেলিয়া বলিলেন, কত সাধ করে সোনার প্রতিমা ঘরে আনলুম বড়বে, জলে ভাসিয়ে দিলে ? আমি এখনি যাব । দুঃখে আত্মানিতে অন্নপূর্ণর বুক ফাটিতেছিল ; মমূল্যের চেয়েও বোধ করি তিনি ছোটবোঁকে ভালবাসিতেন। নিজের চোখ মুছিয়া, তিনি স্বামীর পা ধুইয়া জোর করিয়া সন্ধ্যা করিতে বসাইয়া দিয়া, অন্ধকার বারান্দায় আসিয়া বসিয়া রহিলেন। খানিক পরেই বাহিরে মাধবের কণ্ঠস্বর শোনা গেল। অন্নপূর্ণ প্রাণপণে বুক চাপিয়া ধরিয়া দুই কানে আঙুল দিয়া শক্ত হইয়া বসিয়া রহিলেন। মাধব রান্নাঘর অন্ধকার দেখিয়, এ-ঘরে ফিরিয়া আসিয়া অন্ধকারে অন্নপূর্ণাকে দেখিয়া শুদ্ধস্বরে বলিল, বৌঠান, শুনেচ বোধ হয় ? অন্নপূর্ণ মুখ তুলিতে পারিলেন না। মাধব কহিল, অমূল্যর যাওয়া একবার দরকার, বোধ করি শেষ সময় উপস্থিত হয়েচে । অন্নপূর্ণ উপুড় হইয়া ফুকারিয়া উঠিলেন । যাদব ও-ঘর হইতে পাগলের মত ছুটিয়া আসিয়া বলিলেন, এমন হয় না মাধু ! আমি বলচি হয় না! আমি জ্ঞানে অজ্ঞানে কাউকে দুঃখ দিইনি, ভগবান আমাকে এ-বয়সে কখনো এমন শাস্তি দেবেন না | মাধব চুপ করিয়া রহিল। যাদব বলিলেন, আমাকে সব কথা খুলে বল—আমি গিয়ে মাকে ফিরিয়ে আনবো –তুই উতলা হসনে মাধু—গাড়ি সঙ্গে আছে ? মাধব বলিল, আমি উতলা হইনি দাদা, আপনি নিজে কি-রকম কচ্চেন ? কিছুই করিনি। ওঠ বড়বে, আয় অমূল্য— মাধব বাধা দিয়া বলিল, রাত্রিটা যাক না দাদ। \9ృt