প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অম্বুপমার প্রেম লাভ হইয়াছে, কিন্তু তাহার কি ? সে দণ্ডিত না হইলে কি তাহাকে পাইতে পারিত ? যিনি এখন মনের আনন্দে নিজের উন্নতির জন্ত জাহাজে চড়িয়া বিলাত যাইতেছেন ? আহুপমা সেইখানে বলিয়া বন্ধক্ষণ ধরিয়া কালি, তাহার পর জলে নামিল। এক হাটু, এক বুক, গলা করিয়া ক্রমশঃ ভুবন-জলে জাসিয়া পড়িল । আাধ মিনিট কাল জলতলে থাকিয়া অনেক জল খাইয়া সে আবার উপরে ভাসিয়া উঠিল ; আবার ডুব দিল, আবার ভাসিয়া উঠিল। সে সাতার দিতে জানিত, তাই সমস্ত পুষ্করিণীটা তন্ন তন্ন করিয়া কোথাও ভুবন-জল মিলিল না। অনেকবার ডুব দিল, অনেক জলও খাইল ; কিন্তু একেবারে ডুবিয়া যাইতে কিছুতেই পারিল না। সে দেখিল, মরিতে স্থিরসঙ্কল্প হইয়া ডুব দিয়া, নিশ্বাস আটকাইয়া আসিবার উপক্রম হইলেই নিশ্বাস লইতে উপরে ভাসিয়া উঠিতে হয়। এইরূপে পুষ্করিণীটা সাতার কাটিয়া প্রায় নিশাশেষে যখন সে তাহার ক্লান্ত অবসর নিজীব দেহখানা কোনরূপে টানিয়া আনিয়া সোপানের উপর ফেলিল, দেখিল, যে কোনও অবস্থায় যে কোনও কারণেই হোক, এমন করিয়া একটু একটু করিয়া প্রাণ পরিত্যাগ করা বড় সহজ কথা নহে। - পূর্বে সে বিরহ-ব্যথায় জজরিত-তন্থ হইয়া দিনে শতবার করিয়া মরিতে যাইত, তখন ভাবিত, প্রাণটা রাখা ন+রাখা নায়ক-নায়িকার একেবারে মুঠেীর ভিতরে, কিন্তু আজ সমস্ত রাত্রি ধরিয়া প্রাণটার সহিত ধস্তাধস্তি করিয়াও সেটাকে বাহির করিয়া ফেলিতে পারিল না। আজ সে বিলক্ষণ বুঝিল, তাহাকে জন্মের মত বিদায় দেওয়া —তাহার একাদশবর্ষীয় বিরহব্যথায় কুলাইয়া উঠে না। ভোরবেলায় যখন সে বাটী আসিল, তখন তাহার সমস্ত শরীর শীতে কঁাপিতেছে ; মা জিজ্ঞাসা করিলেন, আহ, এত ভোরেই নেয়ে এলি মা ? অম্ব ঘাড় নাড়িয়া छांनॉहेज, ई । এ-দিকে দত্ত মহাশয় একরূপ চিরস্থায়ীরূপে শ্বস্তর-ভবনে আশ্রয় লইয়াছেন। প্রথম প্রথম জামাই-অাদর তাহার কতকটা মিলিত, কিন্তু ক্রমশঃ তাহাও কম পড়িয়া আসিল। বাড়িগুদ্ধ কেউই প্রায় তাহাকে দেখিতে পারে না ; চন্দ্রনাথবাবু প্রতি কথায় তাহাকে ঠাট্টা-বিরূপ, অপদস্থ, লাহিত করেন। তাহার একটু কারণও হইয়াছিল ; একে ত চন্দ্রবাবুর হিংসাপরবস অন্তঃকরণ, তাহাতে আবার অকষ্মণ্য জামাত বলিয়া জগবন্ধুবাৰু কিছু বিষয়-আশয় দিয়া বাইবেন বলিয়াছিলেন। জহুপম৷ কখনও আসে না ; শাশুড়ী-ঠাকুরাণীও কখনও সে বিষয়ে তত্ত্ব লন না ; তথাপি রামদুলালের মনের আনন্সে দিন কাটিতে লাগিল। যক্ষ-আত্মীয়তার তিনি বড় একটা ধার ধারিতেন না, ঘাহা পাইতেন তাহাতেই সন্তুষ্ট হইতেন। তাহার উপর হ'বেল পরিতোষজনক শাহার ঘটতেছে। বৃদ্ধাবস্থায় দত্ত মহাশয় ইহাই যথেষ্ট বলিয়া קסלי