প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৬৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপ্রকাশিত রচনাবলী করেন না যে, এটা শুধু হিন্দুর উপরেই ভগবানের দয়া নয়—এমনি দয়া সব জাতির প্রতিই তিনি করিয়া গিয়াছেন। ইহুদিরাও বলে তাই, খ্ৰীষ্টান মুসলমান—তারাও তাই বলে। কেহই বলে না যে, তাহাদের ধৰ্ম্ম এবং শাস্ত্রগ্রন্থ সাধারণ মামুষের সাধারণ বুদ্ধি-বিবেচনার ফল। এ-বিষয়ে হিন্দুর শাস্ত্রগ্রন্থের বিশেষ কোন একটা বিশেষত্ব আমি ত দেখিতে পাই না। সকলেরই ধেমন করিয়া পাওয়া, আমাদেরও তেমনি করিয়া পাওয়া। সে যাই হউক, আবশ্যক হইলে শাস্ত্রীয় শ্লোক একটা বদলাইয়া যদি আর একটা নাও করা যায়—নতুন একটা রচনা করিয়া বেশ দেওয়া যায়। এবং এমন কাও বহুবার হইয়াও গিয়াছে, তাহার অনেক প্রমাণ আছে । আর তাই যদি না হবে, তবে যে কোন একটা বিধি-নিষেধের এত প্রকার অর্থ, এত প্রকার তাৎপৰ্য্য পাওয়া যায় কেন ? এই ‘ভারতবর্ষ কাগজেই অনেকদিন পূৰ্ব্বে ডাক্তার ক্রযুক্ত নরেশবাবু বলিয়াছিলেন, “না জানিয়া শাস্ত্রের দোহাই দিয়ে না ।” কিন্তু আমি বলি, সেই একমাত্র কাজ, যাহা শাস্ত্র না জানিয়া পারা যায়। কারণ, জানিলে তাহার আর শাস্ত্রের দোহাই পাড়িবার কিছুমাত্র জে থাকে না। তখন “বাশবনে ডোমকানা" হওয়ার মত সে ত নিজেই কোনদিকে কুল-কিনারা খুজিয়া পায় না ; স্বতরাং, কথায় কথায় সে শাস্ত্রের দোহাই দিতেও যেমন পারে না, মতের অনৈক্য হইলেই বচনের মুগুর হাতে করিয়া তাড়িয়া মারিতে যাইতেও তাহার তেমনি লঙ্গ করে । এই কাজটা তাহারাই ভাল পারে, যাদের শাস্ত্রজ্ঞানের পুজি যৎসামান্য। এবং ঐ জোরে তাহারা আমন নিঃসঙ্কোচে শাস্ত্রের দোহাই মানিয়া নিজের মত গায়ের জোরে জাহির করে এবং নিজেদের বিদ্যার বাহিরে সমস্ত আচার-ব্যবহারই অশাস্ত্রীয় বলিয়া নিন্দ করে। কিন্তু মানবের মনের গতি বিচিত্র। তাহার আশা আকাঙ্ক্ষা অসংখ্য । তাহার মুখ-দুঃখের ধারণা বহুপ্রকার। কালের পরিবর্তন ও উন্নতি অবনতির তালে তালে সমাজের মধ্যে সে নানাবিধ জটিলতার স্বষ্টি করে। চিরদিন করিয়াছে এবং চিরদিনই করিবে। ইহার মধ্যে সমাজ যদি নিজেকে অদম্য অপরিবর্তনীয় কল্পনা করিয়া, ঋষিদের ভবিষ্যৎদৃষ্টির উপর বরাত দিয়া, নিৰ্ভয়ে পাথরের মত কঠিন হইয়া থাকিবার সঙ্কল্প করে ত তাহাকে মরিতেই হইবে। এই নিৰ্ব্ব দ্বিতার দোষে অনেক বিশিষ্ট সমাজও পৃথিবীর পৃষ্ঠ হইতে বিলুপ্ত হইয়া গিয়াছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এ ছৰ্ঘটনা বিরল নয় ; কিন্তু, আমাদের এই সমাজ, মুখে সে যাই বলুক, কিন্তু কাজে যে সত্যই মুনিঋষির ভবিষ্যৎ-টির উপর নির্ভর করিয়া তাহার শাস্ত্র জিনিসটিকে লোহার শিকল দিয়া বাধিয়া রাখে নাই, তাহার সকলের চেয়ে বড় প্রমাণ এই যে, সে সমাজে এখনও টিকিয়া আছে। ৰাহিরের সহিত ভিতরের সামঞ্জস্ত রক্ষা করাই ত বাচিয়া থাকা । ©¢ ግ