প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৭২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ তাহার দুই হাত বাড়াইয় তাহদের চুলের মুঠি ধরিয়া টানিয়া আর একদিকে ফিরাইয়া দিয়াছে। তাহাদিগকে ফিরাইয়াছে সত্য, কিন্তু পাশ্চাত্য পণ্ডিত বা তাহাদেরই পদাঙ্কামুসারী দেশীয় বিদ্বানগণকে ঠিক তেমনি করিয়া নিবৃত্ত করা শক্ত। কিন্তু সে যাই হউক, কেন যে তাহার এই প্রথমটিকে হিন্দুর ভ্রম এবং অধঃপতনের হেতু বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন, অধ্যাপক মহাশয় তাহার যখন কিছুমাত্ৰ হেতুর উল্লেখ না করিয়া শুধু উক্তিটা তুলিয়া দিয়াই ক্রোধ প্রকাশ করিয়াছেন, তখন ইহা লইয়া আলোচনা করিবার আপাততঃ প্রয়োজন অনুভব করি না । অতঃপর অধ্যাপক মহাশয় বলেন, বৈদেশিক পণ্ডিতেরা পরমপুরুষের এই চাতুব্বর্ণ্য অঙ্গবিলাসটি মানিতে চাহেন না এবং বলেন, ঋকৃবেদের সময়ে চাতুব্বর্ণ ছিল না। কারণ, এই বেদের আদ্য কতিপয় মণ্ডলে ভারতবাসিগণের কেবল দ্বিবিধ ভেদের উল্লেখ আছে । আর যদিই বা কোনস্থানে চাতুব্বর্ণ্যের উল্লেখ থাকে, তবে তাহ প্রক্ষিপ্ত। এই কথায় অধ্যাপক মহাশয় ইহাদিগকে অন্ধ বলিয়া ক্রোধে ইহাদের চোখে আঙ্গুল দিয়া দিবেন বলিয়া শাসাইয়াছেন। কারণ, আৰ্যগণের মধ্যে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈগু, শূত্র, এই চতুৰ্ব্বিধ ভেদের স্পষ্ট উল্লেখ থাকিতেও তাহা তাহাদের দৃষ্টিগোচর হয় নাই। তার পর 'আৰ্য্যং বৰ্ণং" শব্দটার অর্থ লইয়া উভয় পক্ষের যৎকিঞ্চিৎ বচস আছে। কিন্তু আমরা ত বেদ জানি না সুতরাং এই ‘আৰ্য্যং বর্ণং শেষে কি মানে হইল ঠিক বুঝিতে পারিলাম না। তবে মোটামুটি বুঝা গেল যে, এই ‘ব্রাহ্মণ' শব্দটা লইয়া একটু গোল আছে : কারণ, ব্ৰহ্ম’ শব্দটির ‘মন্ত্র অর্থও না কি হয় ! অধ্যাপক মহাশয় বলিতেছেন, ম্যাক্সমুলারের এত সাহস হয় নাই যে বলেন, “ছিলই না, কিন্তু প্রতিপন্ন করিতে চাহেন যে, হিন্দু চাতুব্বর্ণ বৈদিক যুগে স্পষ্টতঃ বিদ্যমান ছিল না" ; অর্থাৎ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈগু, পূত্রের ষে বিভিন্ন বৃত্তির কথা শুনা ষায়—তাহার তত বাধাবাধি বর্ণচতুষ্টয়ের মধ্যে তৎকালে আবিভূত হয় নাই—অর্থাৎ যোগ্যতা অনুসারে যে কোন লোক যে-কোন বৃত্তি অবলম্বন করিতে পারিত। আমার ত মনে হয়, পণ্ডিত ম্যাক্সমুলার জোর করিয়া ছিলই না’ না বলিয়া নিজের যে পরিচয় দিয়াছেন, তাহা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাতেই শুধু অর্জিত হয়। কিন্তু প্রত্যুত্তরে ভববিভূতিবাৰু বলিতেছেন,—“সায়ণ চতুর্দশ শতাব্দীর লোক বলিয়া না হয় র্তাহার ব্যাখ্যা উড়াইয়া দিতে প্রবৃত্ত হইতে পার, কি সেই অপৌরুষেয় বেদেরই অন্তর্গত ঐতরেয় ব্রাহ্মণ যখন ‘ব্রাহ্মণস্পতি' অর্থে ব্রাহ্মণপুরোহিত [ঐ, ব্রা. ৮e২৪, ২৪] করিলেন, তখন তাহা কি বলিয়া উড়াইয়া দিবে ? ব্রাহ্মণ্যশক্তি যে সমাজ ও রাজশক্তির নিয়ন্ত্রী ছিল, তাহা আমরা ঋগ্বেদেই দেখিতে পাই ।” \950