প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৮৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ বিদুৰীয়া যখন বলিতেছেন, তখন মানিয়াই লইলাম। কিন্তু জিজ্ঞাসা করি, ওই শ্রদ্ধেয়’ পূজ্যপাদ প্রভৃতি বিশেষণগুলার কিছু অর্থ আছে, ন, ওগুলো শুধু বিস্তার পরিচয় ? নিজের পিতার কোন ভুলের প্রতিবাদ করার জন্য র্তাহার মুখের সামনে দাড়াইয়া যদি বলা যায়, “হে আমার প্রদ্ধেয় পূজ্যপাদ জ্ঞানগরিষ্ঠ বাবা! তুমি তাড়ি খাইয়া নেশার ক্টোকে মাতলামি করিতেছিলে কি জন্য ?” কেমন শুনায় ? কে নাকি বাহিরে মার খাইয়া আসিয়া স্ত্রীর কাছে আস্ফালন করিয়া বলিরাছিল, “হা, কান মলে দিয়েচে বটে, কিন্তু অপমান করেনি।” ঘোষজায়া মহাশয়াও পূজ্যপাদের অপমান করেন নাই, শুধু কান মলিয়াছেন। যাহা হউক, লেখার হাত বটে ! একস্থানে ইনি evolution theory ব্যাখ্যা করিয়া শেষে বলিতেছেন, “প্রবৃত্তিমার্গের শাসন পালন করিয়া তাহা খওনপূর্বক যাহারা নিবৃত্তি-মার্গে আরোহণ করিয়াছিলেন, বর্তমান ভারত লুপ্ত পদাঙ্ক পুনরুদ্ধার আর করিতে না পারিয়া অস্তভাগশায়ী অবশিষ্ট চিহ্নগুলিকে একান্তভাবে গ্রহণ করিয়াছেন ও তাহাকে কৃপণের ধনের মত আঁকড়াইয়া ধরিয়া রহিয়াছে। তাহার পিছনে যে বিস্তৃতমুখ গহবর অন্ধকার মুখ ব্যাদিত করিয়া আছে, তাহাকে সে শুধু অসম্ভব প্রয়াসের দ্বারা আড়াল করিয়া রাখিতে চাহিতেছে, কিন্তু তাহার পায়ের নীচের মাটি তাহার ভাবে যে খসিয়া পড়িতেছে, তাহার প্রতি তাহার দৃকপাত নাই।” অর্থাৎ ‘অন্ধকার গহবর ‘অসম্ভব প্রয়াস’ ‘পায়ের নীচে মাটি খসিয়া পড়া কথাগুলো লাগাইতেই হইবে। কেন তাহা বলা বাহুল্য । কিন্তু গোল হইতেছে এই যে, অন্তভাগশায়ী চিহ্নগুলিতে আাকড়িয়া ধরিয়া থাকিবার মাঝখানে এত বড় গহবরটাই বা আসে কি স্ববাদে এবং পায়ের নীচের মাটিই বা খসিয়া পড়ে কি হেতু ? গহ্বরটা যে শুধু সে চেহারাই দেখিতে পায় নাই, তাহা নহে, আমারও ত কই কোনদিকে চাহিয়া চোখে পড়িতেছে না। আর একস্থানে রাশি রাশি শাস্ত্রের দোষ দিয়া লিখিতেছেন, “জীবনের অবস্থা-ভেদে কর্তব্য ও ধর্মের প্রভেদ ঘটিয়া থাকে। পুরুষের বাহা ধৰ্ম্ম নারীর ধৰ্ম্ম তাহা হইতে পারে না। অপরন্তু—সন্ন্যাসী যদি গৃহীর ধৰ্ম্ম অবলম্বন করে, তবে সন্ন্যাসী ধৰ্ম্মশ্ৰষ্ট হয় এবং গৃহী যদি সন্ন্যাসীর পদামুসরণ করে, তবে গৃহীও ধৰ্ম্ম হইতে খলিত হয়।...লোকসমাজের যখন একটা অনুভূতির স্পন্দনোদয় ঘটিতে থাকে, বিধানের চাপ দিয়া তাহাকে বিমৰ্দ্দিত করা যায় না, গজ্জিত স্রোত তরঙ্গিনীর মত তাহা পথশায়ী প্রতিবন্ধক বিধ্বস্ত করিয়া পথ উন্মুক্ত করিয়া লইয়া অবতরণ করে। স্বতরাং গৃহীদের সন্ন্যাসামুপন্থী হইবার সম্বন্ধে প্রবল শাস্ত্র-প্রতিষেধ থাকা সত্বেও সমাজে তাহার প্রভাব অম্বুমাত্রও হ্রাস হয় নাই ।” আমার বিনীত নিবেদন এই, ‘স্বতরাং’টির অর্থ কি ? সমাজের বিলকুল গৃহীগুলা কি গৃহিণী ত্যাগ করিয়া ৰনে যাইবার সঙ্কল্প করিয়াছে ? না, লুকাইয়া গেরুয়া ❖ግጬ