প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


श्रृश्मीश् হলেই যে হিন্দুসমাজের মত তাকে ধরে এনে বিয়ে দিতে পারব, তা নয়। ও চিরকাল যে শিক্ষা-সংস্কারের মধ্যে বড় হয়ে উঠেচে, তাতে ওর অমতে কিছুই করা যাবে না । কিন্তু মত সে কোন মতেই দেবে না, যতক্ষণ পর্য্যন্ত না দু’জনের মধ্যে এমন একটা কিছু—বুঝলে না স্বত্বেশ ? কথাবার্তার মধ্যেই সুরেশ কতকটা যেন বিমনা হইয়া পড়িয়াছিল, এই প্রণয়ইঙ্গিতটা যেন আর একবার নূতন করিয়া আঘাত করিয়া তাহাকে অচেতন করিয়া দিল। দুপুরবেলায় তাহার নিজের সেই উচ্ছম্বল প্রণয়-নিবেদনের বীভৎস উৎকট আচরণ স্মরণ হওয়ায় নিদারুণ লজ্জায় সমস্ত মুখখানা রাঙা না হইয়া একেবারে কালিবর্ণ হইয়া গেল, এবং সকালের যে খবরের কাগজখানা এতক্ষণ পায়ের কাছে মেজেতে পড়িয়াছিল, সেইখানা তুলিয়া লইয়া তাহার বিজ্ঞাপনের পাতাটার প্রতি একদুষ্টে চাহিয়া রহিল। কেদারবাবু ইহা দেখিতে পাইলেন, এবং এই আকস্মিক ভাবপরিবর্তনের সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ কল্পনা করিয়া মনে মনে অত্যন্ত পুলকিত হইলেন ; এবং সুযোগ বুঝিয়া একটা বড় রকম চাল চালিয়া দিলেন ; কহিলেন, আমি বরাবর এই বড় একটা আশ্চৰ্য্য জিনিস দেখে আসচি সুরেশ, যে, কেন জানিনে, একটা লোককে আজন্ম কাছে পেয়েও এক তিল বিশ্বাস হয় না, আর একটা মানুষকে হয়ত দুঘণ্টা মাত্র কাছে পেয়েই মনে হয়, এর হাতে নিজের প্রাণটা পৰ্য্যন্ত সঁপে দিতে পারি। মনে হয়, যেন জন্মজন্মান্তরের আলাপ,—শুধু দুঘণ্টার নয়। এই যেমন তুমি । কতক্ষণেরই বা পরিচয় বল দেখি ? ঠিক এমনি সময় অচলা ঘরে প্রবেশ করিল। সুরেশ মুহূর্তের জন্য চোখ তুলিয়াই আবার সংবাদপত্রের প্রতি মনসংযোগ করিল। বাবা, তুমি এ-বেলা চা, না কোকো খাবে? আমি কোকেই খাব মা । স্বরেশবাবু, আপনি চা খাবেন ত? সুরেশ কাগজের দিকে চোখ রাখিয়াই অস্ফুটস্বরে বলিল, আমাকে চা-ই দেবেন। আপনার পেয়ালায় চিনি কম দিতে হবে না ত ? না, আর পাচজন যেমন খায় আমিও তেমনি খাই । অচলা চলিয়া গেল । কেদারবাবু তাহার ছিন্ন প্রসঙ্গের স্বত্রযোজনা করিয়া ধীরে ধীরে বলিলেন, এই দেখ না মুরেশ, আমার এই মা-টির জন্যেই এই বুড়োবয়সে আমি বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েচি, এ-কথা তোমার কাছে ত গোপন রাখতে পারলুম না। নইলে নিজের দুর্দশা-দুরবস্থার কাহিনী সহজে কি কেউ অপরের কানে তুলতে পারে। কখনও যা পারিনি, এত বন্ধু-বান্ধব থাকতে সে-কথা শুধু Woo