প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৫৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ থেকে প্লেগ হয়েচে, বঁাচে যে, এ আশা নেই। আমার তোমাকেও একবার বলা উচিত—যাবে দেখতে ? মহিম নিশীথ লোকটিকে চিনিত পারিল না । কহিল, কোন নিশীথ ? কোন নিশীথ ! বল কি মহিম ? এরই মধ্যে আমাদের নিশীথকে ভুলে গেলে ? যার সঙ্গে সমস্ত সেকেণ্ড-ইয়ারটা পড়লে, তাকে তার এত বড় বিপদের দিনে আর মনে পড়চে না ? বলিয়া ঘাড় ফিরাইয়া, একবার অচলার মুখের প্রতি চাহিয়া লইয়া শ্লেষের স্বরে বলিল, তা মনে পড়বে না বটে ! প্লেগ কি না ! এই খোচাটুকু মহিম নীরবে সহ করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, তিনি কি ভবানীপুর থেকে আসতেন ? সুরেশ ব্যঙ্গ করিয়া জবাব দিল, ই, তাই । কিন্তু নিশীথ ত আমাদের দু-চার জন ছিল না মহিম, যে, এতক্ষণ তোমার মনে পড়েনি ! বলি যাবে কি ? মহিম চিনিতে পারিয়া কহিল, নিশীথ কোথায় থাকে এখন ? সুরেশ কহিল, আর কোথায় ? নিজের বাড়িতে, ভবানীপুরে। এ সময় তাকে একবার দেখা দেওয়া কি কর্তব্য বলে মনে হয় না ? আমি ডাক্তার, আমাকে ত যেতেই হবে ; আর অত বড় বন্ধুত্ব ভুলে গিয়ে না থাক ত তুমিও আমার সঙ্গে যেতে পার। কেদারবাবু, আপনাদের কথা বোধ করি শেষ হয়ে গেছে ? আশা করি, অন্ততঃ খানিকক্ষণের জন্যেও ওকে একবার ছুটি দিতে পারবেন ? এ বিদ্রপট যে আবার কাহার উপর হইল, তাহা ঠিক ধরিতে না পারিয়া কেদারবাবু উদ্বিগ্নমুখে একবার মহিমের, একবার কন্যার মুখের দিকে চাহিতে লাগিলেন । র্তাহার এই বড়লোক ভাবী জামাতাটির মান-অভিমান যে কিসে এবং কতটুকুতে বিক্ষুব্ধ হইয়া উঠে, আজও বৃদ্ধ তাহার কুলকিনারা ঠাহর করিয়া উঠিতে পারেন নাই। র্তাহার মুখ দিয়া কথা বাহির হইল না, মহিমও হতবুদ্ধির মত নীরবে চাহিয়া রহিল। দেখিতে দেখিতে অচলায় সমস্ত মুখ রাঙা হইয়া উঠিল । সে ধীরে ধীরে আসিয়া হাতের বইখানা স্বমুখের টেবিলের উপর রাখিয়া দিয়া এতক্ষণ পরে কথা কহিল ; বলিল, তুমি ডাক্তার, তোমার ত যাওয়াই উচিত ; কিন্তু ওঁর ওকালতির কেতাবের মধ্যে ত প্লেগের চিকিৎসা লেখা নেই ? উনি যাবেন কি জন্যে শুনি ? এই সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত জবাবে স্বরেশ অবাক হইয়া গেল। কিন্তু পরক্ষণেই বলিয়া উঠিল, আমি সেখানে ডাক্তারি করতে যাচ্ছিনে, তার ডাক্তারের অভাব নেই। আমি যাচ্ছি বন্ধুর সেবা করতে । বন্ধুত্বটা আমার প্রাণটার চেয়েও বড় বলে মনে করি । একটা নিষ্ঠুর হাসির আভাস অচলার ওষ্ঠাধরে খেলিয়া গেল ; কহিল, সকলেই ●●