প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৭৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


शृश्मांझ् দেখিয়াই অচলার সমস্ত বক্ষ আনন্দে মাধুর্ঘ্যে পরিপূর্ণ হইয়া গেল। অন্তরের মধ্যে স্বামীর পদতলে মাথা পাতিয়া মনে মনে বলল,—প্রভু, আর আমি ভয় করিনে। তোমার সঙ্গে যেখানে যে অবস্থায় থাকিনে কেন, সেই আমার স্বৰ্গ ; আজ থেকে চিরদিন তোমার কুটারই আমার রাজপ্রাসাদ । শ্বশুরবাটী-যাত্রার দিন কেদারবাৰু জামার হাতায় চোখ মুছিয়া কহিলেন, মা, আশীৰ্ব্বাদ করি স্বামীর সঙ্গে দুঃখদারিদ্রর বরণ করে জীবনের পথে, কৰ্ত্তব্যের পথে নির্বিঘ্নে অগ্রসর হও । ভগবান তোমাদের মঙ্গল করবেন। বলিয়া তেমনি চোখ মুছিতে মুছিতে পাশের ঘরে প্রবেশ করিলেন। তাহার পরে, শ্রাবণের এক স্বল্পালোকিত দ্বিপ্রহরে মাথার উপর ক্ষাস্ত-বর্ষণ মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও নীচে সঙ্কীর্ণ কর্দমাচ্ছন্ন পিচ্ছিল গ্রাম্য পথ দিয়া পান্ধী চড়িয়া অচলা একদিন স্বামীগৃহে আসিয়া উপস্থিত হইল। কিন্তু এই পথটুকুর মধ্যেই যেন তাহার নব-বিবাহের অৰ্দ্ধেক সৌন্দৰ্য্য তিরোহিত হইয়া গেল। -- পল্লীগ্রামের সহিত তাহার ছাপার অক্ষরের ভিতর দিয়াই পরিচয় ছিল । সে পরিচয়ে দুঃখ-দারিদ্র্যের সহস্ৰ ইঙ্গিতের মধ্যেও ছত্ৰে ছত্রে কবিতা ছিল, কল্পনার সৌরভ ছিল। পান্ধী হইতে নামিয়া সে বাড়ির ভিতর আসিয়া একবার চারিদিকে চাহিয়া দেখিল—কোথাও কোন দিক হইতে কবিত্বের এতটুকু ইঙ্গিত তাহার হৃদয়ে আঘাত করিল না । তাহার কল্পনার পল্লীগ্রাম সাক্ষাত-দৃষ্টিতে যে এমন নিরানন্দ, নির্জন—মেটে-বাড়ির ঘরগুলো যে এরূপ স্তাতসেঁতে, অন্ধকার জানালা-দরজা যে এতই সঙ্কীর্ণ ক্ষুদ্র-উপরে বঁাশের আড়া ও মাচা এত কদাকার-ইহা সে স্বপ্নেও ভাবিতে পারিত না । এই কদৰ্য্য গৃহে জীবন-যাপন করিতে হইবে—উপলব্ধি করিয়া তাহার বুক যেন ভাঙ্গিয়া পড়িতে চাহিল । স্বামীমুখ, বিবাহের আনন্দ সমস্তই এক মুহূর্তে মায়ামরীচিকার মত তাহার হৃদয় হইতে বিলীন হইয়া গেল। বাটতে শ্বশুর-শাশুড়ী জা-ননদ কেহই ছিল না। দূর-সম্পর্কের এক ঠানদিদি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হইয়া বর-বন্ধু বরণ করিয়া ঘরে তুলিবার জন্য ওপাড়া হইতে আসিয়াছিলেন। তিনি বিবাহের আজন্ম-পরিচিত সাজ-সজ্জার একান্ত অভাব লক্ষ্য করিয়া অব্যক্ত-বিস্ময়ে কিছুক্ষণ চুপ করিয়া দাড়াইয়া রছিলেন –অবশেষে বন্ধুর হাত ধরিয়া তাহাকে ঘরে আনিয়া বসাইয়া দিলেন। পাড়ার যাহারা বধু দেখিতে ছুটয়া আসিল, তাহারা অচলার বয়স অনুমান করিয়া মুখ-চাওয়া-চাওয়ি, গা-টেপ-টেপি করিল এবং প্রত্যাগমনকালে তাহাদের অস্ফুট কলরবের মধ্যে ‘বেস্ম’ ‘মেলেচ্ছ প্রভৃতি দুই-একটা মিষ্ট কথা আসিয়াও অচলার কানে পৌঁছিল। অনতিবিলম্বেই গ্ৰামময় রাষ্ট্র হইয়া পড়িল যে, কথাটা সত্য যে, মহিম ম্লেচ্ছ-কস্তা বিবাহ করিয়া আনিয়াছে। বিবাহের পূর্বে এই প্রকার একটা জনশ্রুতির কিছু কিছু