প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (সপ্তম সম্ভার).djvu/৯৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ প্রকাশ করিতেও অচলার লজ্জা করিতে লাগিল, পাছে ভয়ট তাহার স্বরেশের চোখে ধরা পড়িয়া লজ্জাটা শতগুণ হইয়া উঠে । মহিম ধীরে ধীরে বাহির হইয়া গেল। তাহাকে শুনাইয়া স্বরেশ অচলাকে হাসিয়া কহিল, কেন নিজের মুখ ষ্ট্রেট করা! চিরকাল জানি ও সে পাত্রই নয় যে, কারও কথা রাখবে। তুমি বরং যা হোক একখানা বই আমাকে দিয়ে নিজের কাজে যাও —আমার দিব্য সময় কেটে যাবে । কথাটা হঠাৎ অচলাকে বাজিল যে, বাস্তবিকই মহিম কোনদিন কোন অনুরোধই তাহার রক্ষা করে না। হউক ন৷ ইহা তাহার ক্ষমহৎ গুণ, কিন্তু তবুও স্বরেশের মুখ হইতে স্বামীর এই আজন্ম কর্তব্যনিষ্ঠার পরিচয় তাহারই সম্মুখে আজ তাহাকে অপমানকর উপেক্ষার আকারে বিধিল । কোন কথা না কহিয়া, সে নিজের ঘরে গিয়া, যদুকে দিয়া একখানা বাঙলা বই পাঠাইয়া দিয়া রান্নাঘরে চলিয়া গেল । অনেক রাত্রে শয়ন করিতে গিয়া মহিম জিজ্ঞাসা করিল, স্বরেশ কতদিন এখানে থাকবে তোমাকে বললে ? এমনি তো নানা কারণে আজ সারাদিনই স্বামীর উপর তাহার মন প্রসন্ন ছিল না ; তাহাতে এই প্রশ্নের মধ্যে একটা কুৎসিত বিদ্রুপ নিহিত আছে কল্পনা করিয়া সে চক্ষের নিমেষে জলয়া উঠিল ; কঠোরকণ্ঠে প্রশ্ন করিল, তার মানে ? মহিম অবাক হইয়া গেল । সে সোজাভাবেই কথাটা জানিতে চাহিয়াছিল, ব্যঙ্গবিদ্রপ কিছুই করে নাই । তাহাদের এতক্ষণের আলাপের মধ্যে এ প্রশ্নটা সে বন্ধুকে সঙ্কোচে জিজ্ঞাসা করিতে পারে নাই এবং সুরেশ নিজে হইতে তাহা বলে নাই । কিন্তু তাহার আশা ছিল, সুরেশ নিশ্চয়ই অচলাকে তাহ বলিয়াছে । মহিমকে চুপ করিয়া থাকিতে দেখিয়া অচলা নিজেই বলিল, এ কথার মানে এত সোজা যে, তোমাকে জিজ্ঞাসা ক%বারও দরকার নেই । তোমার বিশ্বাস যে, স্বরেশবাবু কোন সঙ্কল্প নিয়েই এখানে এসেছেন, এবং তা সফল হতে কত দেরি হবে সে আমি জানি। এই ত ? মহিম আরও ক্ষণকাল চুপ করিয়া থাকিয়া মিঞ্চস্বরে বলিল, আমার ও-রকম কোন বিশ্বাস নেই। কিন্তু মৃণালের ব্যবহারে আজ তোমার মন ভাল নেই, তুমি কিছুই ধীরভাবে বুঝতে পারবে না! আজ শোও, কাল সে কথা হবে । বলিয়া নিজে নিজেই বিছানায় শুইয়া পাশ ফিরিয়া নিদ্রার উদ্যোগ করিল। অচলাও শুইয়া পড়িল বটে, কিন্তু কিছুতেই ঘুমাইতে পরিল না। তাহাব মনের মধ্যে সারাদিন যে বিরক্তি উত্তরোত্তর জমা হইয়া উঠিতেছিল, সামান্য একটা কলহের আকারে তাহ বাহির হইয়া যাইতে পারিলে হয়ত সে মুস্থ হইতে পারিত ; কিন্তু এমন করিয়া তাহার মুখ বন্ধ করিয়া দেওয়ায় সে নিজের মধ্যেই পুড়িতে লাগিল । brþr