পাতা:শিখগুরু ও শিখজাতি.pdf/১৩৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ক্রয়োদশ অধ্যায় 为°》 রাজধানী হইতে দুরে যুদ্ধকার্ষ্যে ব্যাপৃত থাকিতেন, তখন আজিজুদীনের উপর রাজধানীরক্ষার ভার অর্পিত হইত। কখনো কখনো তিনি যুদ্ধক্ষেত্রেও প্রেরিত হইয়াছেন । দায়িত্বপূর্ণ দৌত্যকাৰ্য্য-সাধনের নিমিত্ত তিনি অনেক বার নির্বাচিত হইয়াছেন। ১৮৩১ খৃষ্টাব্দে লর্ড উইলিয়ম বেণ্টিঙ্কের নিকট, ১৮৩৫ খৃষ্টাব্দে আমীর দোস্ত মহম্মদের নিকট তিনি দূতরূপে গমন করেন। গবর্ণর জেনারেল বেণ্টিঙ্ক ও অকল্যাণ্ডের সহিত ১৮৩১ ও ১৮৩৮ খৃষ্টাব্দে যথাক্রমে রুপুরে ও ফেরোজপুরে রণজিতের সাক্ষাৎকার হইয়াছিল । এই সাক্ষাৎকারকালে ক্ষুদ্র বৃহৎ সমস্ত কাৰ্য্যের ভার আজিজুদ্দীনকে লইতে হইয়াছিল। মহারাজের সভাসদগণের মধ্যে বুদ্ধির তীক্ষতায় ও চরিত্রবলে তিনি শ্রেষ্ঠতা লাভ করিয়াছিলেন। তাছার দ্যায় ধীরপ্রকৃতি পরামর্শদাতার উপদেশ দ্বারা তিনি চালিত হইতেন বলিয়াই তাহার সুদীর্ঘ রাজত্বকালের মধ্যে শিখদের সহিত ইংরাজদের কোনো বিরোধ উপস্থিত হয় নাই । দরবারে আজিজুদ্দীনের অসামান্ত ক্ষমতা ছিল—তাহার সৌভাগ্য অনেক হিংসাপরায়ণ সভাসদের মনে ঈর্ষানল জালাইয়া দিয়াছিল— কিন্তু আজিজুদ্দীনের চরিত্রে এমন আশ্চর্য শক্তি ছিল যে, কেহ কখনো তাহার প্রকাশু শত্রু হইয়া দাড়ায় নাই । কেহ কেহ বলেন, ধৰ্ম্মমতের উদারতার জন্তই ফকির লোকপ্রিয় হইয়াছিলেন । তিনি মুফি সম্প্রদায়ের মুসলমান, অনেক প্রসিদ্ধ মুসলমানকবি ও দার্শনিক এই শ্রেণীভূক্ত। সাম্প্রদায়িকতা ফকিরের ধৰ্ম্মবুদ্ধিকে সঙ্কীর্ণ করিয়া । ফেলিতে পারে নাই । গোড়া মুসলমানদের মত তিনি কোরাণের সুত্রগুলিকে অত্রাস্তু বলিয় স্বীকার করিতেন না । একদিন মহারাজ রণজিৎ ফকিরকে প্রশ্ন করেন যে, হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধৰ্ম্মের মধ্যে কোনটা শ্ৰেষ্ঠ ? ফকির উত্তর করিলেন –“ আমি দিগন্তগ্রসারিত একটা