পাতা:শিখগুরু ও শিখজাতি.pdf/১৪২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ত্রয়োদশ অধ্যায় 〉)@。 রণঞ্জিতের জীবনের শেষভাগে রাজা দীননাথ খুব ক্ষমতাশালী হইয়াছিলেন। কূটনীতিজ্ঞ দীননাথ রাজনৈতিকমত-বিরোধের মধ্যে সৰ্ব্বদা আপনাকে বাচাইয়া চলিতেন । রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে তাহার বন্ধুবান্ধব ও পৃষ্ঠপোষকের উত্থান-পতন ঘটিয়াছে, কিন্তু তিনি একদিনের জন্যও বিপন্ন হন নাই, বরং তাহার ঐশ্বৰ্য্য, খ্যাতি ও শক্তি দিন দিন বাড়িতেছিল। দূরদর্শনবলে তিনি ভবিষ্ণুবিপদ পূৰ্ব্বেই বুঝিতে পারিয়া তজ্জন্ত যথোচিত সতর্কতা অবলম্বন করিতেন। স্বার্থসিদ্ধির জন্তু তিনি পতনোন্মুখবন্ধুকে ত্যাগ করিতে কোনো দিন কুষ্ঠাবোধ করিতেন না । পদ-গৌরব অক্ষুণ্ণ রাখিবার জন্ত তিনি প্রতারণার সাহায্যে ক্রমাগত বিপদ এড়াইয়া চলিতেন । স্বদেশকে তিনি ভালবাসিতেন ন! এমন নহে-কিন্তু তিনি চিরদিন স্বার্থকে স্বদেশপ্রীতির উপর স্থান দিয়াছেন। চরিত্রগত এই সব দুৰ্ব্বলতাসত্ত্বেও তিনি স্বীয় অনন্তসুলভ কৰ্ম্মদক্ষতাগুণে রণজিতের প্রসন্নদৃষ্টি লাভ করিয়াছিলেন। ১৮৩৪ খৃষ্টাব্দে মহারাজ তাহাকে রাজস্ব-সচিব নিযুক্ত করেন । রণজিতের মৃত্যুপৰ্য্যন্ত তিনি বিশ্বাসী ও সুদক্ষ কৰ্ম্মচারী বলিয়াই পরিচিত ছিলেন । ইংরাজের লাহোর নগর অধিকার করিবার পরে তিনি ইংরাজপক্ষ অবলম্বন করিয়া অত্যন্ত ক্ষম তাশালী হইয়া উঠেন । ইংরাজের শিশু মহারাজ দলিপসিংহের পক্ষ হইয়া যtহাদিগকে রাজ্যচালনার ভার দিয়াছিলেন রাজা দীননাথ তাহাদের অন্যতম । দীননাথের ন্যায় একজন প্রবীণ ব্যক্তিকে হাতে পাইয়া ইংরাজেরা অত্যন্ত উপকৃত হইয়াছিলেন, তাহার সহায়তা না পাইলে অনভিজ্ঞ ইংরাজ-কৰ্ম্মচারীরা লাহোর-রাজ-সরকারের জটিলহিসাব বুঝিয়া উঠিতে পারিতেন না । শিখেরা রাজা দীননাথকে দেশদ্রোহী বলিয়া আন্তরিক ঘৃণা করিয়া থাকে। ১৮৪৮ খৃষ্টাব্দে যুদ্ধান্তে রাজ্য