পাতা:শিখগুরু ও শিখজাতি.pdf/১৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


○ え& শিখগুরু ও শিথজাতি করেন তাহা ইতিপূৰ্ব্বেই বর্ণিত হইয়াছে । পঞ্জনদপ্রদেশবাসীরা তাহার বিস্ময়কর বীরত্বে মুগ্ধ হইয় তাহাকে আপনাদের প্রভু বলিয়া স্বীকার করিল । এইরূপে মহাবীর রণজিৎকে অবলম্বন করিয়া পঞ্চনদপ্রদেশে একটি রাষ্ট্র গড়িয়া উঠিল । মহারাজ রণজিতের রাজ্য শতদ্রু হইতে খাইবার, মুলতান হইতে কাশ্মীরপর্য্যস্ত বিস্তৃত হইয় পড়িয়ছিল। ১৮০২ খৃষ্টাকে মহাবীর রণজিতের মনে মুলতান জয়ের বাসন জাগিয়া উঠে । ১৭৩৮ খৃষ্টাব্দে নাদিরসাহ ভারত আক্রমণ করেন, সেই সময় হইতে মুলতাননগর আফগানরাজাদের শাসনাধীন হয় । মাঝে ১৭৭১ হইতে ৭৯ খৃষ্টাদপৰ্য্যন্ত কখনো কখনো ভাঙ্গী শিখসর্দারের এই নগরের উপর প্রভুত্ব করিয়াছেন। আফগানরাজ তাইমুর তাহাদিগকে তাড়াইয়া দিয়া মুজফফরখাকে ঐ নগরের শাসনকৰ্ত্ত নিযুক্ত করেন । নবাব মুজাফফর বীরপুরুষ হইলেও রণজিতের তুল্য প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীর সহিত সমকক্ষভাবে যুদ্ধ চালাইবার শক্তি র্তাহার ছিল না । ১৮০২ খৃষ্টাব্দে দেশভ্রমণে বাহির হইয় রণজিৎ যখন মুলতানের দিকে সতৃষ্ণ নয়নে তাকাইতেছিলেন বৃদ্ধ নবাব তখন প্রমাদ গণিলেন । তিনি স্বয়ং বিশ মাইল অগ্রসর হইয়া রণজিতের সহিত দেখা করেন এবং তাহাকে মহামূল্য উপঢৌকন প্রদান করিয়া বিদায় করেন । ১৮৯৬ খৃষ্টাব্দে রণজিৎ আবার মুলতান-অভিমুখে অগ্রসর হইতেছিলেন । এ যাত্রাও অসহায় নবাব সত্তর সহস্র মুদ্র দিয়া রক্ষা পাইলেন । এত অর্থ পাইয়াও রণজিতের বিজয়-লালসা প্রতিনিবৃত্ত হইল না, পরবৎসর তিনি মুলতান আক্রমণ করিয়া আংশিক জয় করিলেন । কিন্তু শিথবীরগণের প্রাণ-পণ চেষ্টা ব্যর্থ করিয়া আফগানের দুর্গরক্ষাকার্য্যে বীরত্বের -পরিচয় প্রদান করিল । উভয় পক্ষে একটা রফ হওয়ার পরে যুদ্ধের অবসান হয় ; রণজিৎ বিস্তর ধনরত্ন লাভ করেন ।