পাতা:শিখগুরু ও শিখজাতি.pdf/৫১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


*Σ & শিখগুরু ও শিখজাতি বলিয়া তিনি দিল্লীনগরে আহূত হইলেন । সম্রাট আরংজীব তাহাকে শাস্তিপ্রদানে উদ্যত হইয়াছিলেন ৷ জয়পুরের মহারাজের পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি সে বার অব্যাহতি লাভ করেন । মহারাজ দিল্লীশ্বরকে বুঝাইয়া দিলেন যে, শিখগুরু একজন বিষয়-বিরাগী মহাপুরুষ, রাজশক্তি-লাভের নিমিত্ত তিনি লালায়িত নহেন । তিনি তীর্থে তীর্থে ভ্রমণ করিয়া ধৰ্ম্মপ্রচার করিয়া থাকেন । জয়পুরের মহারাজ গুরু তেগবাহাদুরের ধৰ্ম্মপ্রাণতায় মুগ্ধ হইয়াছিলেন । তিনি এই সময়ে গুরুকে সঙ্গে লইয়া বঙ্গদেশে গমন করেন । পথিমধ্যে র্তাহারা কিছুকাল পাটনা নগরে বাস করিয়াছিলেন। গুরু এই সময়ে বঙ্গদেশ ও আসাম পরিভ্রমণ করেন । এইরূপ কথিত আছে যে, কামরূপের রাজ গুরুর মুখে শিখধৰ্ম্মমাহাত্ম্য শ্রবণ করিয়া উক্ত ধৰ্ম্ম গ্রহণ করিয়াছিলেন। গুরুর বাসস্থানে একটি ধৰ্ম্মশালা নিৰ্ম্মিত হইয়াছে। বর্তমান ধুবড়ী নগরে ঐ ধৰ্ম্মশালা এখনও দৃষ্ট হয়। কিছুকাল পরে গুরু আবার পঞ্চনদপ্রদেশে ফিরিয়া আসিলেন । তাহার চিরশত্রু রাম রায়ের প্ররোচনায় তিনি পুনৰ্ব্বার বিপন্ন হইলেন । ধৰ্ম্মপ্রাণ তেগ বাহাদুরের বিরুদ্ধে ডাকাতি, অন্যায্যকরস্থাপন প্রভৃতি নানা অভিযোগ আরোপিত হইল । এবারে দিল্লীশ্বর তাহার বিরুদ্ধে একদল সৈন্ত প্রেরণ করিলেন । শিখ গুরু যুদ্ধে পরাজিত হইয়া বন্দী হইলেন । তেগ বাহাদুর স্পষ্টই বুঝিতে পারিলেন, এ যাত্রা আর তাহার মুক্তিলাভের সম্ভাবনা নাই। তিনি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হইলেন। দিল্লীযাত্রার পূৰ্ব্বে তিনি আপনার বীরপুত্র গোবিন্দের হস্তে পিতা হরগোবিদের তরবারি প্রদান করিয়া তাহাকে গুরুপদে বরণ করিলেন এবং বলিলেন—“ প্রাণপণে এই তরবারির সম্মান রক্ষা করিও ।