প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শেষ প্রশ্ন.djvu/৩৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন OQ ෆ কোরে এই প্রতিহিংসার ব্যাপারটা নীলিমা কিছুতেই অন্তরে মেনে নিতে পারলেন । ও বলে তাকে ত্যাগ করাটাই তো বড় নয়, তাকে ফিরে পাবার সাধনাই স্ত্রীর পরম সার্থকতা অপমানের শোধ নেওয়াতেই স্ত্রীর সত্যকার মর্য্যাদা নষ্ট হয়, নইলে ও তো কষ্টি-পাথর, ওতে যাচাই করেই ভালোবাসার মূল্য ধর্য্য হয়। আর এ কেমনতরো আত্ম-সম্মান-জ্ঞান ? যাকে অসম্মানে দুর করেছি তারই কাছে হাত পেতে নেওয়া নিজের খাওয়া-পরার দাম ? কেন, গলায় দেবার দড়ি জুটুলনা ? শুনে আমি ভাবতাম নীলিমার এ অন্যায়,—এ বাড়াবাড়ি। কিন্তু আজ ভাবি, ভালোবাসায় পারেনা কি ? রূপ, যৌবন, সম্মান, সম্পদ কিছুই নয় মা, ক্ষমাটাই ওর সত্যুিকার প্রাণ । ও যেখানে নেই, সেখানে ও শুধু বিড়ম্বনা । সেখানেই ওঠে রূপযৌবনের বিচার-বিতর্ক, সেখানেই আসে আত্ম-মর্য্যাদী-বোধের টগ অফ-ওয়ার ! o o কমল তাহার মুখের পানে চাহিয়া চুপ করিয়া রহিল। আশুবাবু বলিলেন, কমল, তুমিই ওর আদর্শ,—কিন্তু, চাদের আলো যেন স্বৰ্য্য-কিরণকে ছাপিয়ে গেলো। তোমার কাছে ও যা পেয়েছে, অন্তরের রসে ভিজিয়ে স্নিগ্ধ মাধুর্য্যে কত দিকেই না ছড়িয়ে দিলে । এই দুটো দিনে আমি দু’শো বচ্ছরের ভাবনা ভেবেচি, কমল । স্ত্রীর ভালোবাসা আমি পেয়েছিলাম, তার স্বাদ চিনি, স্বরূপ জানি, কিন্তু নারীর ভালোবাসার সে কেবল একটি মাত্র দিকৃ,—এই নতুন তত্ত্বটি আমাকে যেন হঠাৎ আচ্ছন্ন করেছে। এর কত বাধা, কত ব্যথা— আপনাকে বিসর্জন দেবার কতই না অজানা আয়োজন । হাত পেতে নিতুে পারলামনা বটে, কিন্তু কি বলে যে একে আজ নমস্কার জানাবো আমি ভেবেই পাইনে, মা ।