পাতা:শ্রীমদ্‌ভগবদ্‌গীতা-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১৯৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তৃতীয় অধ্যায় । Tra ষোড়শ পর্য্যস্ত আমরা অনৈসর্গিক কথার ঘোরতর আবর্তে পড়িয়াছি । - সমস্তই অবৈজ্ঞানিক ( unscientific ) কথা । এখানে মহৰ্ষিতুল্য প্রাচীন ভাষ্যকারের কেহই সহায় নহেন ; তাহার। বিশ্বাসের জাহাজে পাল ভরিয়া অনায়াসে উত্তীর্ণ হইয়া গিয়াছেন । আমরা মেচ্ছের শিষ্য ; আমাদের উদ্ধারের সে উপায় নাই। তবে ইহা আমরা অনায়াসে বুঝিতে পারিব, যে গীভ, বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ নহে । বিশুদ্ধ বৈজ্ঞানিক তত্ত্বপ্রচার জন্ত Huxley বা Tyndale ইহার প্রণয়ন করেন নাই । তিন সহস্ৰ বৎসর পূৰ্ব্বে যে গ্রন্থ প্রণীত হইয়াছে, উনবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান তাঁহাতে পাওয়ার প্রত্যাশ করা যায় না । তবে, পাঠক বলিতে পারেন যে যাহা তুমি তগবন্ধুক্তি বলিতেছ, তাহা ভ্রমশূন্ত ও অসত্যশূন্ত হওয়াই উচিত। অবৈজ্ঞানিক হইলে অসত্য হইল । ঈশ্বরের অসত্য কথা কি প্রকারে সম্ভবে ? কিন্তু এই সাতটা শ্লোক যে ভগবদ্যুক্তি, তাহা আমি বলিতে পারি না। আমি পূর্বেই বলিয়াছি, যে গীতায় যাহা কিছু আছে, তাঁহাই যে ভগবঢুক্তি এমন কথা বিশ্বাস করা উচিত নহে । আমি বলিয়াছি যে কৃষ্ণকথিত ধৰ্ম্ম অন্ত কর্তৃক সঙ্কলিত হইয়াছে। যিনি সঙ্কলন করিয়াছেন, তাহার নিজের মতামত অবশ্য ছিল । তিনি যে নিজসঙ্কলিত গ্রন্থে কোথাও নিজের মত চালান নাই, ইহা সম্ভব নহে । শ্ৰীধর স্বামীর হ্যায় টীকাকারও সঙ্কলনকর্তা সম্বন্ধে “প্রায়শঃ শ্ৰীকৃষ্ণমুখাদ্বিনিঃস্বতানেব শ্লোকানলিখত”* ? ইহা বলিয়া স্বীকার করিয়াছেন যে “কাংশ্চিৎ তৎসঙ্গতয়ে ব্যরচৎ ”* ? এখানে দেথিতে পাইতেছি, কৃষ্ণোক্ত নিক্ষম