পাতা:শ্রীমদ্‌ভগবদ্‌গীতা-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৭২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


দ্বিতীয় অধ্যায় । gło এখনও জিজ্ঞাস্ত, সেই পরিমিত কালের অবসানে জীবাত্মা কোথায় যায় ? হিন্দুশাস্ত্র এ প্রশ্নের উত্তরে বলে,— জীবাত্মা তখন জীবলোকে প্রত্যাগমন করিয়া দেহান্তর ধারণ করে। হিন্দুধর্শ্বের বিশেষতঃ এই গীতোক্ত ধর্শ্বের এই অভিপ্রায় যে, জীবাত্মা সচরাচর দেহধ্বংসের পর দেহান্তর প্রাপ্ত হইয়। পুনৰ্ব্বার জন্মগ্রহণ করে । সেই দেহান্তর-প্রাপ্তিতে কৰ্ম্মফলামুসারে এবং পাপপুণ্যের তারতম্যানুসারে সদসৎ ধোনি প্রাপ্ত হয় । সচরাচর কৰ্ম্মফল ভোগ জন্মাস্তরেই হইয়া থাকে, কিন্তু কতকগুলি কৰ্ম্ম এমন আছে ৰে তাহার ফলে স্বৰ্গপ্রাপ্তি হইতে পারে, আর কতকগুলি কৰ্ম্ম এমন আছে যে তাহার ফলে লরক ভোগ করিতে হয় । যে সেরূপ কৰ্ম্ম করিয়াছে, তাহাকে স্বর্গে বা নরকে ধাইতে হইবে । কৰ্ম্মের ফলের পরিমাণামুযায়ী কালই স্বর্গ বা নরক ভোগ করিবে, তাহার পর আবার জীবলোকে আসিয়া জন্মগ্রহণ করিবে । কিন্তু বে ব্যক্তি জন্মান্তর মালে না, তাহার সকল আপত্তির এখনও নিরাশ হয় নাই । সে বলিবে, “যাহা বলিলে, এটা সাফ আন্দাজি কথা। অনন্ত স্বর্গ নরক ভোগ অসঙ্গত কথা স্বীকার করি। স্বর্গ ও নরক আমি আদে মানিতেছি না । কেন না তাহার প্রমাণাভাব । কিন্তু স্বর্গ নরক না মানিলেই জন্মান্তর মানিৰ কেন ? মানিলাম ষে, আত্মা অবিনাশী। তুমি বলিতেছ, যে অবিনাশী আত্মা, যদি দেহান্তরে না যায়, তৰে কোথায় যাইবে ? আমি উত্তরে বলিব, কোথায় ষায় তাহ জাৰি ন। পরকালের কথা কিছুই জানি লা। যাহা জানি না, যাহার প্রমাণাভাব, তাছ মানিব না । জন্মস্তিরের প্রমাণ দাও,