প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সতী-দীনেশচন্দ্র সেন.djvu/১৫

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
সতী
 

পাইয়াছিলেন, শিব বিষ পান করিয়া আসিয়াছিলেন। এবারও তাহাই হইল, ভৃগু সমস্ত দেবগণকে অমৃত তুল্য আদরে আপ্যায়িত করিলেন। অপমানের তীব্র বিষ শিবের প্রতি বর্ষিত হল। কিন্তু শিব-মুখের অর্দ্ধেন্দু-উজ্জ্বল প্রসন্নতা দেখিয়া কে তাহা জানিতে পারিবে?

 শুধু নন্দীর মনে সেই তীব্রজ্বালা জ্বলিতে লাগিল। সপ্তাহ পর্য্যন্ত নন্দী আহার করে নাই। রাত্রিতে নিদ্রা যায় নাই, সিদ্ধি ঘুটিতে ঘুটিতে অতিমাত্র ক্রোধে নন্দী কষ্টি পাথরের আধারগুলি ভাঙিয়া ফেলিয়াছে। সতী বলিতেন, “নন্দী, তুই সমস্ত অসুরের বল পাত্রগুলির উপর প্রয়োগ করিলে তাহা উহারা সহিতে পারিবে কেন?”


 এদিকে শিবের প্রতি দক্ষ-প্রজাপতির ক্রোধ ক্রমেই বাড়িয়া চলিল। ভাবিলেন, এত ভর্ৎসনা করিলাম, তাহার উত্তরে একটা কথা বলিল না, বেটার এরূপ অভিমান? দেবতারা বলে—ইহার নমস্য কেহ নাই। ইহাতেই মনে হয়, শিব অতি হীনকুলে জন্মগ্রহণ করিয়াছে; অমরগণের সুবৃহৎ পরিবার—ইহাতে কনিষ্ঠ জ্যেষ্ঠের প্রতি মর্য্যাদা-যুক্ত না হইলে সামাজিক শৃঙ্খলা থাকিবে কিসে? শিব ভুঁইফোড়, শ্বশুর পিতৃতুল্য, তাঁহাকে প্রণাম করিবে না। বৃহস্পতির সঙ্গে অনেক শাস্ত্র ঘাঁটিয়া দেখা গেল, এরূপ বিধি কোথাও নাই।

 দক্ষের দল ক্রমেই পুষ্ট ও প্রবল হইয়া উঠিল। তাহার একবাক্যে বলিল, “শিবের আচার দেবসমাজের বিধিবহির্ভূত; আমরা তাহাকে দেব বলিয়া স্বীকার করিব না।”