প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সেই সাদিক মামা । ভীষণ রোমান্টিক ভদ্রলোক ! কথায় কথায় যিনি গল্প ফাঁদতে পারেন । যাঁকে আমার ভীষণ ভয়ও করে। অথৈ একটা মানুষ । আমাদের মনে করেন খুকি। এই প্রথম তাঁর মুখে লেডি কথাটা শুনলাম । বুঝলাম, আমি বড়ো হয়েছি মামা তালা খুললেন । ডাকলেন- এসো। মামার মুখে প্রচুর দাড়ি গজিয়েছে। গোঁফে আচ্ছাদিত মুখ । যেন এক ইংরেজ কবি । দুই চোখ উন্মনা । চোখে এখন চশমা নেই। ছোটাে একখানা চৌকি। অতিশয় ছােটাে টেবিল। ক্ষুদ্র শেলফ-এ কিছু বই। দেয়ালে ঝুল-লগা রবীন্দ্রনাথ । বিছানার চাদরটা আধ-ময়লা হয়েছে। দড়িতে জড়ো করে ঝোলানো একটি সাদা জামা আর পানজাবি । চৌকির তলায় একটা টিনের ব্যাকস । একটা স্টোভ । বোঝাই যাচ্ছে, উনি হােটেলে খান । সরকারি রাস্তার ট্যাপ থেকে বালতি করে জল এনে রঙিন মাগে স্নান করেন । গোলাপি তোয়ালে আর টুথব্রাশ আছে। সাবান-কীেটোয় শাস্তা সাবান । সিনেমাতারকদের প্ৰিয় । ব্যস। এই হচ্ছে একটি মানুষের আস্তানা। এত বড়ো মানুষটার এই হাল ! কখনও জীবনে চাকরির চেষ্টা করলেন না । রাজনীতি করেন এমনই যে সেই রাজনীতি জীবনে কখনও তাঁর প্রতিষ্ঠা দিতে পারে না। প্রতিষ্ঠা মানে, চাকরি বাকরি ইত্যাদি । চৌকিতে বসে বললাম-আমি আমার বন্ধুর কাছে খবর পেয়ে আপনার কাছে এলাম । সামনে আমার পরীক্ষা । আমায় ইংরাজিটা একটু দেখিয়ে দেবেন ? শুনলাম, আপনার হােমে একজন মুসলিম শিক্ষিক ভালো অঙ্ক করান। একটু বলে দিন না, উনি আমায় পড়িয়ে আসবেন । তারপরেই বললাম-আপনি কেমন আছেন ? উনি বললেন-আই অ্যাম অলওয়েজ ইন ফ্রেবার। চায়ের অনুষঙ্গে মেশানো এই ইংরাজি তাঁর নিজস্ব। একটু থেমে বললেন-তোমাদের দেখতে পাই না, এই যা দুঃখ । শুধালাম-আপনি আর গাঁয়ে যান না কেন ? --সময় হয় না । তা ছাড়া হোমটা চালাচ্ছি। চারজন শিক্ষক । সবাই আমার মতন আটকুঁড়ে হতভাগ্য। আমার আরো ছাত্রছাত্রী দরকার। সব স্টুডেন্টদের বলছি, ওরা ওদের বন্ধুদের আমার হােমে নিয়ে আসুক। বেশ, তুমি পড়বে বই কি । আমি সময় পাব না । পড়তে হলে হােমে আসতে হবে । তবে মহিলাটি তোমার বাড়িতে গিয়েই পড়িয়ে আসবে। --আপনি না পড়ান, মায়ের কাছে একবার দেখা করতে--- -হ্যাঁ । অবশ্যই । যাব । উনি কি এখানেই আছেন ? -আমাদের এখানেই বোধহয় পারমানেনট থাকতে হবে । গোলোকবাবুরা SSo