প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৩২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নাস্তিক ধন্যবাদ হে অমর হাদিস, ধন্যবাদ বিশ্ব-কুরান ! হে মৌলভী মৌলানা, হাফ মোল্লা, ফুল মোল্লা আপনাদের সকলকেই হাজার শুকরিয়া । ধন্যবাদ এইজন্যে যে, এ কাহিনীর আসল স্রষ্টা তো আপনারাই-আপনাদের মছলা মোতাবেক, শলা-সওয়াল-মাফিক যতদূর সম্ভব আমি এই কাহিনীর কথকতা করছি মাত্ৰ । ভাগ্যিস আমি ধর্মে মুসলমান, আমার পিতামাতা মুসলমান, হামিদুল এবং রাবেয়া, তারাও তো মুসলমান, তাদের পিতামাতাও পরহেজগার সুন্নী, অতএব এ গল্প এই শর্ত ছাড়া কোনোভাবেই শুরু হতে পারত না । আমি যদি হতাম হিন্দু, রাবেয়া যদি হতো শৰ্মিলা, হামিদুল যদি হতো নির্মল কিম্বা অনিমেষ-তবে কি এ-কাহিনী সৃষ্টি হতে পারত ? কস্মিনকালেও আর যাই হােক, রাবেয়াকে নিয়ে তিন মাস আমি যে ঘর করলাম, তা কি সম্ভব হতো ? এই দেখুন, প্রথমেই ঘর করার কথা লিখে ফেললাম। আসলে আমার প্রথমেই ঘর-ভাঙার গল্পই বিবৃত করা উচিত, নতুবা হামিদুলের ষোল আনা চটে যাবার সম্ভাবনা । হামিদুল এমনিতেই হয়তো মনঃক্ষুন্ন হবে, তার এই লজ্জাকর, হয়তো খানিক কলঙ্কিতও বলতে পারি, কাহিনীর আদ্যোপােন্ত আমার গোপন রাখাই কি উচিত ছিল না ? আমার দিক থেকে উচিত হয়তো ছিল, কারণ লজ্জা কি কেবল তার ? লজ্জা তো রাবেয়ার, আমারও । কিন্তু এ এমনই এক অবমাননাকর, লজ্জায় লজ্জিত চমকপ্ৰদ কিসসা, যা গোপন করতে চাইলেও মানুষের কাছে গোপন থাকে না । এত যে লজ্জা, তবু তো আমার পক্ষে এ-এক রোমাঞ্চকর নাটক যেন, আর সে কারণেই শুকরিয়া ! সে কারণেই আমার বেশ লাগে, ভাগ্যিস আমি মুসলমান ঘরে জন্মাতে পেরেছি। কথাটা একটু ভেঙেই বলি । ভাঙব, কিন্তু কোথা থেকে ভাঙি ? আমার হাতে এ যেন একটা রহস্যময় গোলাকার বস্তু, যার মুখ নেই, কিন্তু মোড়ক খোলামােত্রই যা এক ঝলকে ছড়িয়ে w8