প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


에 1 আমি জানি, সাধারণ কাহিনীগুলোর তিনটে ভাগ । গোড়ার ভাগে থাকে পাত্ৰপাত্রীর পরিচয় এবং তার পর মধ্যভাগ অব্দি তার শৃঙ্খলাপূর্ণ বিন্যাস, যেখানে পৌঁছতে পৌঁছতে নাটক জমে ওঠে । আবার এমন কাহিনীও রয়েছে, যে কাহিনী মধ্যভাগ থেকে শুরু করে গোড়ায় আসে এবং তার পর শেষভাগে পৌঁছয় । আবার শেষ থেকেও কাহিনী শুরু হতে দেখেছি । এ গল্পেও শেষভাগে একটা জায়গা আছে, যেখান থেকে শুরু করলে আমাকে এইভাবে শুরু করতে হবে-সকাল বেলা হামিদুল টাঙ্গা নিয়ে আমার বাসাবাড়ির দরজায় এসে দাঁড়ালো। আজ রাবেয়ার তিন মাস পূর্ণ হলো । এই তিন মাসে রাবেয়া যে সোয়েটারটা প্রায় বুনে শেষ করে এনেছিল, সহসা একটানে সমস্ত বুনন খুলে ফেলে দিল । আশ্চর্য এক চমকে চেয়ে দেখলাম, চোখের জলের মতো টলটলে একটি স্বপ্ন গাল বেয়ে গড়িয়ে গলে ঝরে পড়ছে। আমিই কি শুধু এই একটি স্বপ্নের বুনন দিয়ে একটা রহস্যময় গোলাকার বস্তু রচনা করেছি, যার মুখ নেই, কিন্তু মোড়ক খোলামাত্রই যা এক ঝলকে ছড়িয়ে পড়ে ? এভাবেও শুরু করা যেত। কিন্তু আসলে এ কাহিনীর শুরু মধ্যভাগ থেকে । এর গোড়ার কথা গোড়াতেই বলে নেওয়ার নিয়ম নেই। আষাঢ় মাসের আজ ১৪ তারিখ । রেডিওর ঘোষণা মতো তিন-চার দিন আগেই বিষ নেমে যাওয়ার কথা । আকাশ এবং প্রকৃতি সে-কথা রাখেনি। আজ ১৪ তারিখ সন্ধ্যায় আকাশে গাঢ় হয়ে মেঘ জমল । চার দিক ঘোর অন্ধকার করে হাওয়া উঠল। প্রথমে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টির দানা আকাশ থেকে ঝরে পড়তে লাগল। তার পর ঘন হয়ে করতে লাগিল । সাঁই সাঁইটানা দমকা বেগ দিয়ে বিষরি ঘন-ঘোর সংকেত বাজতে লাগল। আকাশে বিদ্যুৎ খেলতে খেলতে দিগন্ত ঝিকিয়ে বিকিয়ে মেঘ ডেকে গেল । কোথাও বজ্ৰপাত হলো । আমি দরজা জানিলা সব বন্ধ করে দিয়ে মোমবাতি জ্বাললাম । গাছপালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের তার নিশ্চয়ই ছিড়ে গেছে। ঝড় বইছে টানা দুঘণ্টা । ঘড়ি দেখে বুঝলাম, সন্ধ্যা অনেকক্ষণ উৎরে গেছে। রান্নাঘর শোবার ঘরের সংলগ্ন । রান্নাঘরে গিয়ে দেখলাম, থালা ঢাকা দেয়া ভাত-তরকারি রয়েছে। ফুলমতি রান্না কের চকে রেখে বর্বর পূর্বভাস যেই বাড়ি চলে গেছে। ফুলমতি আমার ঠিক একতলা বাড়ি। দুখানা শোবার ঘর। বৈঠক নেই। রান্নাঘর আছে। পায়খানা e