প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আছে। বাড়ির সামনে এক চিলতে সবুজ মাঠ । বাগান করতে হলে প্রাচীর তুলতে হবে । একটা টিউবওয়েল আছে। ঘরে বিদ্যুৎ-বাতি রয়েছে। পেছনে দেয়াল-তোলা প্রাচীর। পূব-পশ্চিম খানিক বেড়ে রয়েছে, কিন্তু সামনের মাটিটুকু ঘিরে দেয়নি, ফাঁকা পড়ে রয়েছে। মালিককে বলেছিলাম-ঘিরে দিন । বাগান করব । মালিক বলেছে-ঘিরে নিন । ভাড়া থেকে কাটান হয়ে যাবে । আবার একদিন বলেছে-কলেজে পড়াচ্ছেন ! টাকা জমছে নিশ্চয় । পারেন তো কিনে নিন মাটিটা । বানানো ঘর পাচ্ছেন্ন মশাই। অতি সুলভে ফাঁকার উপর ७भम (नोक्ष विीश िशत मां । বলছি চাকুরিটা সন্য সদ্য হয়েছে টাকা জমতে সময় লাগে মশাই। সময় আমার ব্যবসা । আর একটা বাড়িতে হাত দিয়েছি, পয়সার খুব তাগাদা রয়েছে। তবু দিলাম সময়। বলি কি, টাকা জমিয়ে নয়, গাঁয়ে বাপের কাছে হাত পাতুন গিয়ে । কর্মচা টাঁক পেয়ে যাবেন । আমার হাসি পেল। হাসলাম। কিন্তু অনাবশ্যক মনে করেই মুখ ফুটে বললাম না, আপনি ঠিক বুঝবেন না, আমার বাপজান কতটা দরিদ্র । গ্রামের মানুষের কাছে ভিক্ষে করেই এক রকম আমায় পড়িয়েছেন । হামিদুল টাকা না পাঠালে আমার এম এ পরীক্ষাই দেওয়া হতো না । আমার ঋণ সবার কাছে, কেউ হয়তো আমার কাছে ঋণী নয় । সবাই দেয় আমাকে, আমি কাউকেই কখনো দেওয়ার সুযোগ পাইনি, সংগতিই বা কোথায় ? আজ অধ্যাপনার কাজ পেয়েছি, এ যুগে এই পেশাও ঠিক আর মানুষের আদর্শসম্মত নয়। এই পেশায় নিযুক্ত থেকে মানুষের ঋণ কতটুকু আর শোধ দিতে পারি ? বিশেষ ঐ হামিদুলের ঋণ কি শোধ করা যায় ? ভেবেছি, ওর বাচ্চা হলে, জানি না। অ্যাদিন তার বাচ্চাকাচ্চা হলো কিনা, নিজের কাছে রেখে আপনি সন্তানের মতো মানুষ করে দেব। হামিদুলকে একদিন কথাটা চিঠিতে লিখে জানাতে হবে। ভাবছিলাম, হামিদুলের সন্তান মানে তো রাবেয়ার সন্তান, রাবেয়া আমার প্রস্তাবে কখনো কি না করতে পারে ? 9s হামিদুলও নিশ্চয় খুশি হবে। ববরি এই উন্মত্ত প্ৰকৃতি, অঝোর বর্ষণের সন্ধ্যায় স্মৃতি বড় দুঃখ দেয়, আনন্দাও । NN