প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৪১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মতো সেই ট্রাজেডির অনুপ্রবেশ ঘটে । আমি এ কথা অনেককেই অনেকদিন বোঝাতে চেয়েছি । যাই হােক । সেই এক ট্রাজেডির বোঝা আমরা আজ তোমার কাঁধেও চাপিয়ে দিতে চাই, প্রফেসর ! আমি চমকে সচকিত হলাম। বাইরে বৃষ্টি এতক্ষণে থেমে এসেছে। হয়তো রেণু বৃষ্টি হচ্ছে। মোমবাতি পুড়ে গলে শেষ হয়ে এল। পাশের ঘরের তাকে মোমবাতি, মোমবাতির বাণ্ডিল রয়েছে । রাবেয়া বলল, মোমবাতি কোথায় বল, নিয়ে আসছি। বরং পাশের ঘরের মোমটাই ততক্ষণে নিয়ে আসি । ওটা অতটা পোড়েনি । রাবেয়া আপনা থেকে তাক চিনে ও-ঘরের জ্বলন্ত মোমবাতি হাতে করে, অন্য হাতে আরো দুটি তাজা মোম নিয়ে ফিরে এল । আমি বললাম, আমার এই প্ৰথম বিয়ে করা, অথচ ছেলেবেলার বর-কনের খেলাধুলায় যে বিয়ে হতো, আজকের এই বিয়েও যেন তাই। তবুও প্রথম,মানুষ বলবে, এ এক সত্যকার বিয়ে । এ বিয়েতে আমার কী কী খরচ হবে বলুন ! রুস্তম বললে, কিছুই না । সেই খোলামকুচি, পিটুলিপাতার নোট আর জিভে চুক চুক করে নকল ভোজ খাওয়া । অবিশ্যি তুমি এখন আমাদের তিন কাপ সত্যিকার চা করে দিতে পার না ? রাবেয়া টি-পয়ে মোম বসাচ্ছিল । বললে, ঠিক আছে, আমি চা করে দিচ্ছি। বলেই সে পাশের ঘরের দিকে পা বাড়াল। আমি বললাম, চা কোথায়, চিনি কোথায়, তুমি তা জানবে কী করে ? দাঁড়াও, আমি দেখে দিচ্ছি। --বেলল, তােমার আর কষ্ট করে উঠে আসতে হবে না। সে আমি দেখে -স্টোভে তেল নেই । --টিনে তো কেরোসিন রয়েছে । বললে রাবেয়া । बळ्ळांभ, ऊ अछ । হামিদুল বললে, এই তিন মাস, তোর কোনো কষ্ট হবে না মামুন । দেখে নিস ! রাবেয়া যে পাক্কা গিন্নি, সে তো বর-কনে খেলার সময়ই আমরা বুঝেছিলাম ! আজি পাঁচ ছ বচ্ছর বিয়ে হলো, ঘরকন্নার কাজে রাবেয়ার তিলার্ধ পরিমাণ ক্রুটিও চোখে পড়েনি । বললাম, তবে ওকে তালাক দিলি কেন ? রুস্তম বললে, সে কথা তোমাতে আমাতে একটু আগেই আলোচনা হয়ে গেছে । বললাম, তবু তালাকের একটা প্রত্যক্ষ কারণ থাকে ; আমি সেই কথা 8v)