প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হবে । চা ছাঁকবার ছাঁকনােটা একদম ফেসে গেছে, নুন রাখবার একটা কাঠের বাক্স দরকার। ফুলমতি বড নোংরা, লঙ্কাওঁড়োর কীেটােতে মাছের শুটুকি আর বড়ি রেখেছে। তুমি শুটুকি খাও ? –S (FS --তাই তো বলি, তুমি তো কখনো ওসব খেতে না ! বললাম, ওসব অখাদ্য ফুলমতির প্রিয় খাদ্য, আমায় লুকিয়ে রান্না করে ! আদুরে ঝিকে নিন্দে করতে পারি ? রাবেয়া বললে, কিন্তু ওসব দেখেই আমার গা গুলিয়ে উঠল। আচ্ছা তামাশা Si ! -হ্যাঁ, তাই । বলেই আমি হাসতে লাগলাম। হাতে প্লেট তুলে নিয়ে চায়ের কাপে চুমুক দিলাম । চা খেতে খেতে চোখ তুলে দেখলাম, রাবেয়া নিম্পলাক হয়ে আমায় চেয়ে চেয়ে দেখছে, যেন সস্নেহে আমায় গিলছে । বললাম, কী দেখছি অত ? সেই ছেলেবেলার মামুনকে চেনা যায়। কিনা ! রাবেয়া বলল, ঠিক তাই ! তুমি কত শুকিয়ে গেছি! ভালো করে খাও না বুঝি ! ঝিয়ের হাতে রান্না খেয়ে কি আর শরীর ঠিক থাকে ? আচ্ছা মামুন ? ! GH}نسس۔ --সেই ছেলেবেলার একটা কথা তোমার মনে আছে ? -(कन् दार्थों ? --সেই যে ! একবার নদীতে তুমি আর আমি মাছ ধরতে গেলাম, মনে আছে ? বললাম, তা আর নেই, কতদিন আমরা গামছা ছেকে পুঁটি মাছ ধরেছি । -নদীপাড়ে একটি দুটি জলভর্তি গর্ত থাকত আমাদের । মাছ ধরে আমরা সেই গর্তে রেখে দিতাম । মনে পড়ে ? বললাম, পড়ে বৈকি ! কতদিন তোমার হাত থেকে মাছ ফস্কে গেছে রাবি, সেই অপরাধে কত মেরেছি ! একদিন তো -একদিন আমায় ছুটে মারতে গিয়ে তুমি পা ফস্কে নদীর পাড়ে পিছলে পড়ে গেলে । তোমার কপাল পাড়ের খোলামকুচিতে কেটে গেল। সে কী রক্ত ! নদীর জল লাল হয়ে গেছিল । আমার সে কী ভয় আর কান্না । তুমি যতই বল, কিছু হয়নিচুপ কর রাবি, ততই আমি চিৎকার করে কাঁদি । তুমি আমায় কিছুতেই থামাতে পারলে না। আমি কাঁদতে কাঁদতে কচুর ডাটা এনে কপালে আন্টিসেপটিক রস লাগিয়ে দিলাম। নদী থেকে উঠে এসে জামগাছের ছায়ায় 8.