প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৫০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এমনই কুলে থাকে, আমাদের জীবনের মতোই অস্থায়ী ভঙ্গুর এবং অনিশ্চিত চেয়ে দেখতে ভয় পাই, তুমি পাও না ? বললাম, তোমার কথাগুলো গল্পের মতো সুন্দর । রাবেয়া বললে উলের কােটা চালিয়ে, গল্পই তো ! জীবন মাত্রই কোনো না কোনো গল্পের পাঠ। প্রত্যেক মুসলমান নারী-জীবন এক একটি উপন্যাস । শরৎবাবু লিখেছিলেন, হিন্দু বিধবাদের নিয়ে, তেমন কেউ নেই, যিনি আজকের তালাক নিয়ে লেখেন, মুসলমান মেয়েদের অন্তৰ্বেদনার ছবি আঁকেন ! গ্রামে যাও, দেখবে প্ৰায় প্ৰত্যেক ঘরেই ছিনিমিনি চলছে । দরিদ্রদের মধ্যে তালাক যেন ডালভাত হয়ে গেছে, কথায় কথায় তালাক, গালিগালাজের মতো অবলীলায় উচ্চারিত হয় । আমরা মেয়েরা বুঝে পাইনে, বিংশ শতাব্দীর ফুরিয়ে আসা সাঁঝবেলাতেও সত্যিকার মুসলমান জাতটা কোথায় রয়েছে ! বললাম, তুমি সাহিত্য করলে অনেক ভালো করতে রাবেয়া ! রাবেয়া সে কথায় কান না দিয়ে বললে, আমি ঠিক বোঝাতে পারব না, মুসলমান পুরুষ কতখানি পশ্চাদপদ, ধর্মের আদিম সংস্কারে মনটা বিকল হয়ে রয়েছে, ধমনীর রক্তে তাদের একটা জিঘাংসার নেশা লেগে থাকে, আরব্য উপন্যাসের বাদশা সব এক একটা ! বললাম, আজও অ্যারাবিয়ান নাইটসের শাহজাদী যেন গল্প শুরু করতে পারে, অধুনা তুমিই সেই উজির-কন্যা শাহজাদীর নব্য সংস্করণ। রাবেয়া চোখ তুলে বললে, ঠাট্টা করছি ! করবে নাইবা কেন ? তুমি তো সেই পুরুষই ! আমি বোকার মতো হাসতে হাসতে বললাম, আত্মপক্ষ সমর্থন করে তোমায় একটা কথা বলি রাবেয়া । রাবেয়া বললে, তুমি কি বলবে জানি ! বলবে, এমন কিছু মুসলমান ছেলেও রয়েছে, যারা কুসংস্কারমুক্ত, সভ্য এবং মুসলমান মেয়েদের প্রতি করুণাপরায়ণ ! -করুণাপরায়ণ বলছি কেন ? তারা কি মেয়েদের দুঃখ বোঝে না ? --বোঝে বৈকি ? এই তো তোমার বন্ধু, টাকার জোরে আমায় জবর-দখল করে আমার মনের সব দুঃখ মোচন করে দিয়েছে। সে কি আমায় কোনো মুহুর্তে এতটুকু বুঝতে চেষ্টা করেছে ? বললাম, সে-ও কি তোমায় আমারই মতো আশৈশব ভালোবাসে নি ? আমরা দুজন তোমার ভিতর দিয়ে একটি পূর্ণ এক ও অভিন্ন সত্তার মতো নিজেদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পূর্ণতা খুঁজেছি। রাবেয়া বললে, তুমিও কম সুন্দর কথা বল না । কিন্তু তা শুনতেই সুন্দর, R