প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৫৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


-এই যে তোমার আমার জীবন । এই বুট দাম্পত্য। মিছিমিছি বানানো ছায়াবাজি । বললাম, বুঝেছি। তোমার খুব মনস্তাপ হচ্ছে। কষ্ট পাচ্ছি। রাবেয়া বলে, কষ্ট নয়। ভাবছি, আমরা দুজন কোনো মুখোশ পরে নেই QV5i ? বলেই আমার একখানা হাত চট্ট করে চেপে ধরে রাবেয়া । বাগ কোরো না লক্ষ্মী ! আমাৰ ভুলও হতে পাবে ! দেখলাম, রাবেয়া যা বলতে চেযে এগিয়েছিল, তা চেপে যাচ্ছে । বললাম, ভুল কেন হবে । ঠিক কথাই বলেছ পিয়ারী ! মুখোশ । একটি মুখোশ স্বামীর । একটি স্ত্রীর। মুখোশ তিন মাস বাদে খুলে ফেললেই আমি মামুন রহমান, অধ্যাপক । তুমি হামিদুল-পত্নী গাজীপুরী, শিকদারের বউমা । ছায়াবাজিই বটে ! হা হা করে কখন নিজের মনের অজান্তে হেসে উঠি । রাবেয়া অসহায়ের মতো কেঁদে ফেলে। বলে, তোমাকে জেনেশুনে কষ্ট দিচ্ছি মামুন ! আর কখনো এমন করে বলব না । এস আমরা আমাদের সামনের এই কয়টা দুর্লভ দিনরাত্রি যেমন করে পারি সুখে সুষমায় ভরিয়ে তুলি। আমি যাব, নিশ্চয়ই বেড়াতে যাব । চিতির খেয়াঘাটে নীেকা চড়ব । নদীর ওপারে ফুলমতির বাড়ি । সেখানে গিয়ে একটা মেয়েলি ভাবের আসর বসবে । বললাম, মেয়েদের ভাবের আসর। সে এক বিষম বস্তু । ওতে আমার ভারি লোভ { রাবেয়া বললে, লোভ যতই থােক। ফুলমতি আর আমার দোস্তালিতে তুমি পুরুষমানুষ, ঢুকবে কেন ? তোমায় আমরা নেব না । বললাম, না নাও, আমি তখন চিতির সাথে ভাব করব । একলা একলা ঘুরব । মেয়েদের হেঁসেল-ঘরেব কাব্য যতটা ভাবছি, আমার ওতে ততটা রুচি নেই । আটক কাজে যাও তুমি, লাউ কুটিতে বসি আমি । ওরকম খুনসুটির কন্যাটে রসে ভিয়ান দেয়া মেয়েরাই পারে । বলতেই আমার সাথে রাবেয়াও হেসে উঠে বলে, তুমি অনেক তথ্যই জান দেখছি। কিন্তু এটা তো জান না, মেয়েরা সংসার-জীবনে পড়শি না পেলে হাঁপিয়ে ওঠে । বললাম, হাঁপিয়ে ওঠে বলছ কি, একদম টেসে যায় বল। সেইজন্যে বলছি, মনে একটু আলোবাতাস দাও । চল, বেরিয়ে পড়ি । -এখনই যাবে নাকি ? --কাল রোববার । কাল যাব । বেলাবেলি গিয়ে ফিরে আসব। কথাটা wo