প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মধ্যে একটা নাগরদোলা ঘুরছে আমার । মেলার সেই নাগরদোলায় বাচ্চারা সব চড়েছে। দোলা ঘুরছে। আমি ওদের খোপে খোপে সাজিয়ে তুলে দিচ্ছি। নামিয়ে নিচ্ছি। আমার কোনো ক্লান্তি নেই । কোনো বিরাম নেই । এ স্বপ্নের কোনো মানে হয় ? এই দোলার মধ্যে আমার মুন্না কোথাও লুকিয়ে আছে । --মুন্না ? তোমার মুন্না ? -হ্যাঁ গো ; আমার খোকা । আমাদের ছেলে । -কোথায় সে ? কখনো বলনি তো । —বলব কি ! ও তো স্বপ্নের মধ্যেই রয়েছে। স্বপ্নটা মিষ্টি, কি মিষ্টি ! তাই না ? কিন্তু সে একদিন বাস্তবেও ছিল। -छिन ? --রক্তেমাংসে ছিল । এখন স্বপ্ন ছাড়া কোথাও তাকে পাওয়া যায় না। একটি দীর্ঘশ্বাস পড়ল আমারও । বললাম, স্বপ্ন আর বাস্তবটা এত মাখামাখি আগে জানা ছিল না । দাও, আর একটু চা দাও !!-- আমরা বেরিয়ে পড়লাম । চিতির খেয়াঘাটে পৌঁছতে সময় বেশি লাগে নি । একটু একটু শীতালি হাওয়া দিচ্ছে প্রকৃতি । রাবেয়া তার মনের মতো কবে সেজেছে । আমার পছন্দ করা সন্ধ্যামণি ফুলেব মতো স্নিগ্ধ বঙের শাড়ি, কালচে লাল ব্লাউস । অন্সরা খোঁপায় রাবেয়াকে অচেনা নারীর মতো আপন সৌন্দর্যে কুষ্ঠিত মনে হচ্ছে। এমন-এক অচেনা বিস্ময় কোথা থেকে আসে, এই দুই চোখ তার ব্যাখ্যা পায় না । এই অচেনাকে সম্পর্শ করলে স্পর্শভার সে উপেক্ষা করে না, এর চেয়ে ভালোলাগা অনুভূতি আর কী আছে ? হাতের সোনালী চিকণ চুড়ি একবার টুয়ে দেখি । যেন ঠিক শিশিরের সৌন্দর্যকে স্পর্শ করছি এইভাবে কেঁপে ওঠে রাবেয়া । শিহরিত হয় । মনে মনে বলি, তুমি ঠিক হুরীর মতো অলৌকিক রাবেয়া ! ছুয়ে ছেনে দেখতে বড় সাধ হয় ! হঠাৎ কবিত্ব করে রাবেয়া বলে, নদী ছাড়া তোমার কি কোনো বন্ধু ছিল না ? চমৎকার প্রশ্ন । বললাম, এ শহরে আমি একজন কোরা বাসাড়ে । আধুনিক নাগরিক কবির মতো একলা । আমার জীবনে গীতি-কাব্যের নির্জনতা বিষগ্নতা, এক ধরনের ব্যথিত বিষাদ আছে । মানে বোঝা ? রাবেয়া বললে, প্রত্যেক অতৃপ্ত প্রেমে ব্যথিত বিষাদ অবধারিত প্রসঙ্গ---এই বুঝি ! এত স্বচ্ছন্দে এত সুন্দর কথা বলতে পারে রাবেয়া, ভেবে অবাক হই । নদীর এপারে। কিনারে ঝুঁকে থাকা বিশাল বট-পাকুড়ে জড়ােজড়ি গাছের শিকড়ে বসি দুজন । দুপুরের নির্জন ঘাট । মাঝি নেই। ওপারে নীেকো বাঁধা । পেছনেও 9؟