প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৬৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


-আমি অত্যাচার করছি ? এর নাম অত্যাচার ? আশ্চর্য! মেয়েমানুষকে তার দুঃখের কথাটাও বুঝে নিতে দেবে না তোমরা ? ঠিকই তো, তোমার পক্ষে যতটা স্বাভাবিক সংগত তাই তুমি করেছ। সেদিন চায়ের নেমস্তম্নে সুমন্তবাবু এসেছিল, তোমার প্রফেসর বন্ধু, তখন আমায় গোপন চিঠির মতো আড়ালে সরিয়ে দিলে । তুমি চাইলে না। আমি সামনে যাই । তোমার মযদি তো আমি নষ্ট করিনি । আড়ালে থেকে কেঁদেছি । ইদাতের কলঙ্কিত সীমানা লঙ্ঘন করিনি । --ব্যস, ব্যস, ব্যাস । নো মোর রাবেয়া ! আমার কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেছে । ঠিক এই কথাটাই আজ কয়দিন ধরে বলতে চেয়েও চেপে চেপে যাচ্ছিলে। কিন্তু এসব বলার জন্য নদীর মতো স্বচ্ছ প্রবাহকে দোষ দেওয়ার কোনাে প্রয়ােজন তো দেখি না। ঘরে বসে বললেও তো পারতে । কিন্তু একটিও সত্য কথা বল নি । --ঠিক বলেছি। সব সত্য । স্নান হেসে বললাম, অবিচার হচ্ছে বাবেয়া ! কী কারণে জানি না, আমার ভালোবাসাকে তুমি বার বার অপমান করছি। তোমাকে পাওয়ার মধ্যে আমার আড়ষ্টতা আছে, ভীরুতা নেই । -মিথ্যে কথা ! এসব কথায় বাঁধন আছে। অটুনি নেই। মুহুর্তের জন্য মন হযতো ভোলে, কিন্তু মন ভরে না। —যা কিছু ভাবতে পারো । মনটা কিন্তু তোমার বিকল হয়ে গেছে । সুমন্তবাবু একজন সিনিক । যে কোনো স্বাভাবিক সৌন্দর্যেই তার অবিশ্বাস, ঘূণা । এমনিতেই সে বুঝেছে, তুমি আমার বউ । এ ব্যাপারে তার কোনো কীেতুহলই নেই । তোমাকে সামনে এনে তাকে বিরক্ত করার কোনো মানে হয় না । --আমি যে বউ, জগতকে এ কথা বোঝাতে পারবে তুমি ? --বাড়ির বি-টা কি জানে না একথা ? তুমি হীনমন্যতায় ভুগছি। বললাম, তুমি সত্যিই আমার কাছে কী চাইছ, সাফ সাফ বললেই তো পারো ? পাঁচপ্যোঁচ বুঝি না। আমি । আর এতই যখন জ্বালাপোড়া যে কথা সহজে বুঝবে, সেটাই তবে বলি এবার । হ্যাঁ, ঠিক, তোমার মনে যা ধরবে এখন সেটাই বলি । নীেকো এল । নীেকোয় চেপে বসলাম । -ধৰ্মধ্বজীরা যতই বলুক, এই তিন মাসের পুণ্যফল, কিছুই নেই। জীবনের খানিকটা দায় বলতে পারো । নিরুপায় বাঁধন একটা । না আছে সুখ, না আছে স্বস্তি । সংস্কারের জঞ্জীরকে ভয় হয় । রাবেয়া মনে হলো ঠিক এ রকমই একটা কিছু তার চিন্তার সমর্থনে আমার মুখে শুনতে চাইছিল। ক্ষেপে উঠে সে বললে, ঠিক বলেছ, সংস্কার এত সহজে