প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৭৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বললাম, জানি নে তো ! -কেন জান না ? সে তোমার বিবি । জানা উচিত ছিল । তুমি কি চাও না, মেয়েটি হামিদুলের গোরস্তালীতে ফিরে যাক । হামিদুল তোমার দোস্ত । আল্লার দোস্ত নবীজী । তোমাকে মাসে মাসে তালাক দিতে নির্দেশ করে গেছি। তুমি ফরাজী, আহলে হাদিস ! হানাকী হলে এক রাত সহবাস করতে, ছেড়ে দিতে । —দেখুন খতিব সাহেব, আমি ফরাজী নই, হানাফীও নই। আমি মানুষ । আপনার হাদিসে আমার জন্য ভালো কোনো শালীন কিছু রয়েছে কি ? ক্ষেপে উঠলেন খতিব । বললেন, দেখা মামুন ভাই ! তোমার সাথে কোনো তাঙ্ক করতে আসিনি। জানতে এসেছি, তুমি কতদূর এগোলে । দু মাসে দুটি তালাক দিতে পেরেছ কিনা ! অথবা রাবেয়ার পেটে বাচ্চা দাঁড়িয়ে গেছে কিনা ! দাঁড়িয়ে গেলে, আমি আর দাঁড়াব না ভাই ! তা হলে শিকদার রাবেয়াকে নেবে। না। রাবেয়া তখন পামানেন্টলি তোমার। হামিদুল ফক্কা । তখন আর ইদ্দাতের অপচয় করে লাভ কী ?-হামিদুলের পয়সায় তুমি মানুষ হয়েছ, তোমার বাচ্চাও কি মানুষ হবে ? ক্যাগের বাসায় বগের ডিম। কিন্তু তুমি নেমকহারাম নও ! আশ্চর্য হয়ে শুধালাম, এ কথা করি ? আপনার নাকি শিকদাবের ? খতিব বললেন, কথা হচ্ছে হাদিসের। এ কারো চৌদ্দ পুরুষের কথা নয়। --তাই যদি হয়, এক রাত্রির পর রাবেয়াকে নিয়ে গেলেই তো হতো ! -কেন তুমি বুঝলে না মামুন ! তুমি ফরাজী । হানাকী নও । হুটু করে কারুকে তুমি ছাড়তে পার না । ইমাম শাফী রহমতুল্লা আলাহে-- -থাক । খতিব সাহেব । আপনার আর দাঁড়িয়ে থেকে ফায়দা নেই । আপনি আসুন । হামিদুল কোথায় ? -সে কোথায়, বাড়িতে খবর নেই । কোথায় কোথায় ঘুরছে ! এর আগে তিন মাস দশ দিন তার ইন্দ্দাতে গেছে । ইদাৎ মানে হচ্ছে শোক করা, মনস্তাপ করা, ওয়েট করা, যাকে বলে প্রতীক্ষা, দ্যাট ইজ হাডার দ্যান ডেথ । তাই সে পাগলের মতো ঘুরছে । তোমার দোস্ত । আল্লার দোস্ত নবীজী ! রেগে উঠে বললাম, শিকদারের কত টাকা খেয়েছেন, আপনি ? এখন আমি আপনাকে কত টাকা দেব ? একটা ভালো ফতোয় দিন । রাবেয়াকে রক্ষা করুন খতিব সাহেব ! --রক্ষা তুমিই করবে, শোন, মামুন ! ইট ইজ ইওর ইনসাফ ! তালাক যদি না দিয়ে থাক, আজই গিয়ে তালাক দাও । দুটি দাও এক সাথে । আমরা যেদিন নিতে আসব, সেদিন দেবে একটি । আমি পয়সার ভুখা নই। আমি আল্লার গুলাম । নবীয় উন্মত ||- Գեր