প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:সিমার - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৯৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এসেছে ? আমি টাঙ্গায় চড়ব । ডুলি বিবিরা আমার মুখ দেখবে। এক লাখ চবিকশ হাজার পীরপয়গম্বর আমার বিয়ের সাক্ষী দেবে । আল্লার ১০১টি নাম, খতিব সাহেব, তাছবীতে গুনে গুনে আমার হাতে দোয়া, তাবিজ বেঁধে দেবে । আমাকে জিন-পরী কেউ ছোবে না। পাপিও না । পুণ্যও না । মুন্নার হাত ধরে আমি পুলসে রাত পার হব । বেহেস্তের দরজা খুলে/ডাকবে নবী উম্মৎ বলে/যে উস্মাৎ সে যাবে চলে, ইয়া আল্লা, রাজুল আল্লা ! আমি রাবেয়ার মুখের দিকে নিম্পলক চেয়ে দেখি । দুই চোখ বার বার ঝাপসা इ उ •· অবুঝ মাতৃত্বের আকাঙক্ষা একটি মাত্র রাত্রির কামনা দিয়ে নিজেকে পরিতুষ্ট করতে পারে কি পারে না, তা যে কতখানি অনিশ্চিত, রাবেয়া এই বাস্তব ব্যাপারটা তার অবুঝ আকাঙক্ষার কারণেই হয়তো বা বুঝতে চায়নি। তার কামনা যেমন বিমূঢ়, তার মাতৃত্বের সাধও তেমনি দিশেহারা। রাবেয়াকে শুধাবার ছিল, একটি অসম্ভব স্বপ্নে মিলিত হওয়ার জন্য তোমারই আপন ভালোবাসার কাছে আপনাকে এত খাটো করলে কেন ? এ কথা তাকে কখনও জিজ্ঞাসা করার অবকাশ পাই নি । ধীরে ধীরে ওষুধপথ্যি করে সে সুস্থ হয়ে উঠেছিল । সাতটি দিন চোখের সামনে ফুরিয়ে এসেছিল। আট ২৭ তারিখ ভোরবেলা আকাশ পরিষ্কার । মেঘ কেটে গিয়ে শরৎ বিদায় নিচ্ছে। সূর্যে ধোয়া সজল প্ৰকৃতি গ্রামের শাস্ত রূপসীর মতো স্থির, ছবির মতো তন্ময় । আজ হামিদুল আসবে। কথাটা মনে মনে উচ্চারণ করি। আসবে হামিদুল । আয় হামিদুল, নিয়ে যা । তোর বিশ্বাস, তোর ভালোবাসা আমি আগলে বুকে করে রেখেছি, তুই এসে নিয়ে যা । যেমন করে ধরে রাখতে বলে গেছিস, আমি তেমনি করেই ধরে আছি। তুই কতক্ষণে ফিরে আসবি, তারই অপেক্ষায় আমি অধীর হয়ে রয়েছি। তুই এলেই দেখবি, আমার চোখে মুখে শান্ত নিলিপ্ত প্ৰতীক্ষা । ভালো করে চেয়ে দেখ, চোখে কোথাও দুঃখ কষ্ট আছে কিনা, তুই সবই যখন ফিরিয়ে, নিবি, আমি বােকার মতো ব্যথিত হই। কিনা, আমার ব্যথায় লোভ এসে জড়ো হয়। কিনা ? আমিও তো তোরই মতো রক্ত-মাংসের মানুষ । ভালো আমিও বেসেছি। আমারও কিছু অংশভাগ রয়েছে তোদের ভালোবাসার ভেতর । এইটুকু তোকে আর একবার মনে রাখতে বলি। তোদের እፄ