পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০৩
বিচার-গৌরব।

 সিরাজদ্দৌলা রাজকার্য্যে হস্তক্ষেপ করিয়া কিরূপভাবে রাজধর্ম্ম প্রতিপালন করিয়াছিলেন, তাহা অনেকের নিকটেই অপরিচিত। কেন না, যে সামান্য কয়েক মাস তিনি সিংহাসনে উপবেশন করিয়াছিলেন, তাহা কেবল যুদ্ধকোলাহলেই অতিবাহিত হইয়া গিয়াছিল; নিশ্চিন্তমনে রাজকার্য্য পরিচালনা করিবার অবসর ঘটিয়া উঠে নাই। সুতরাং সিরাজদ্দৌলার শাসনকার্যের সমালোচনা করিতে হইলে, নবাব আলিবর্দ্দীর শেষ জীবনে তিনি যখন প্রতিনিধিরূপে রাজ্যশাসন করিয়াছিলেন, সেই সময়ের ইতিহাসেরই আলোচনা করা আবশ্যক। সে ইতিহাসে সিরাজদ্দৌলা এবং ইংরাজ-বণিক, কে কিরূপ চরিত্রের পরিচয় রাখিয়া গিয়াছেন, তাহার তথ্যানুসন্ধান না করিয়া, অনেকেই বলিয়া থাকেন যে, সে কালের ইংরাজ দেবতা—আর সিরাজ অসুর, তাই অসুর দলনের জন্যই পলাশির সমরক্ষেত্রে ইংরাজ-দেবতা সঙ্গীনস্কন্ধে অবতীর্ণ হইয়াছিলেন!

 ইংরাজ ইতিহাস-লেখকগণ বহুযত্নে সিরাজদ্দৌলার যে নৃশংসচরিত্র অঙ্কন করিয়া গিয়াছেন, ইংরাজ দপ্তরের কাগজপত্রে কিন্তু সেরূপ চরিত্রের পরিচয় পাওয়া যায় না। সিরাজ ইংরাজদিগকে বিশ্বাস করিতেন না; তাহাদিগকে দুচক্ষে দেখিতে পারিতেন না। তাহাদের ছল-চাতুরী ও কুটিল কৌশল ধরিতে পারিলে সাধ্যমত দণ্ডদান করিতেন। এসকলই সত্য কথা। কিন্তু রাজকার্য্যে লিপ্ত হইয়া সেই সিরাজদ্দৌলা ইংরাজদিগকে কোনদিনই ছল চাতুরী বা জাল জুয়াচুরী করিয়া অপদস্থ বা সর্বস্বান্ত করিবার চেষ্টা করেন নাই। বরং কোন কোন কার্য্যে স্পষ্ট বুঝিতে পারা যায় যে, ইংরাজিদিগের উপর-রাজা রা জমীদারগণ কিঞ্চিন্মাত্রও উৎপীড়ন করিলে, সিরাজদ্দৌলা কঠোর-