পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০৮
সিরাজদ্দৌল্লা।

করিবার চেষ্টা করিতে লাগিলেন। তাঁহারা যে নবাবের আশ্রয়ে নবাবের রাজ্যে নিরুদ্বেগে বাণিজ্য ব্যবসায়ে লিপ্ত হইয়া অর্থোপার্জ্জন করিবার অধিকার পাইয়াছেন, তাহার জন্য কৃতজ্ঞ হওয়া দূরে থাকুক, যাহাতে কলিকাতা নগরে নবাবের শাসনক্ষমতা প্রতিষ্ঠালাভ করিতে না পারে, সময় এবং সুযোগ পাইলেই তাহার জন্য প্রাণপণে যত্ন করিতেন!

 আলিবর্দ্দী ইহা জানিতেন। কিন্তু বর্গির হাঙ্গামায় লিপ্ত হইয়া তিনি জানিয়া শুনিয়াও উচ্চবাচ্য করিতেন না। এখন ইংরাজ বণিকের ধৃষ্টতা ও অকুতোভয়তা লক্ষ্য করিয়া সিরাজদ্দৌলাকে সাবধান করিবার সময়ে স্পষ্টই বলিতে লাগিলেন যে, ইংরাজের রণশক্তি খর্ব করিতে না পারিলে, বাঙ্গালা রাজ্যের কদাচ মঙ্গল হইবে না।[১] এতদিনের পর আলিবর্দ্দীর ন্যায় প্রবীণ ধর্ম্মশীল নরপতিকেও আপন মতের পোষকতা করিতে দেখিয়া, সিরাজদ্দৌলাও পুলকিত হইয়া উঠিলেন। কিন্তু সে পুলক কেবল ক্ষণিক পুলকমাত্র! যখন বাহুবল ছিল, ধনবল ছিল, দেশে দেশে আলিবর্দ্দীর প্রবল প্রতাপে শত্রুহৃদয় কম্পিত হইত, তখন যাহা সম্ভব হইত, এখন আর তাহা সম্ভব হইতে পারে না। আর সে দিন নাই।

 ইংরাজ, ফরাসী, দিনামার, ওলন্দাজ—সকলেই বিদেশী বণিক; নবাব-সরকারের অনুকম্পায় বাঙ্গালাদেশে বাণিজ্য করিতেছেন। তাঁহাদের মধ্যে ইউরোপখণ্ডে যুদ্ধই হউক আর সন্ধিই সংস্থাপিত হউক, তাহার সঙ্গে বাঙ্গালাদেশের যে কিছুমাত্র সংস্রব থাকিতে পারে, সিরাজদ্দৌলা তাহা বুঝিতে পারিলেন না। ফরাসীর সহিত ইংরাজের ইউরোপখণ্ডে যুদ্ধ বাধিলে, বাঙ্গালাদেশে ইংরাজ-দুর্গ-সংস্কার .

  1. "His last advice to his grandson was to deprive the English of Military power. -Holwell's Tracts, page 286."