পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০৯
শত্রুতার পূর্ব্বলক্ষণ

করিবার আবশ্যক কি? ইউরোপে যুদ্ধ বাধিয়াছে বলিয়া ফরাসীরা কি কলিকাতা লুণ্ঠন করিতে পারেন? সুতরাং সিরাজদ্দৌলা ভাবিলেন যে, দুৰ্গসংস্কার করাই ইংরাজের উদ্দেশ্য, ফরাসী-যুদ্ধের আশঙ্কার সংবাদ একটা ধূয়া মাত্র! ইংরাজগণ কেবল দুৰ্গসংস্কারের চেষ্টা করিয়াই নিরস্ত হইলেন না। তাহারা বিলাতের কর্তৃপক্ষীয়দিগের আদেশ পাইয়া, কলিকাতা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত সেনাদল গঠন করিতে আরম্ভ করিলেন।[১] এদিকে আলিবর্দ্দী উপদেশ দিতেছেন য়ে, ইংরাজের রণশক্তি খর্ব করিতে না পারিলে বাঙ্গালা রাজ্যের কিছুতেই কল্যাণ নাই, ওদিকে সেই ইংরাজ দিন দিনই রণশক্তি প্রবল হইতে প্রবলতর করিয়া তুলিতেছেন! সিরাজদ্দৌলা ইহা নীরবে সহ্য করিতে পারিলেন । প্রায় সৰ্ব্বদাই মাতামহের নিকটে আসিয়া ইংরাজদিগের বিরুদ্ধে অভিযোগ করিতে আরম্ভ করিলেন।

 রাজবল্লভ ইংরাজদিগের রীতি নীতি ও কার্যপ্রণালী বিলক্ষণরূপে অবগত ছিলেন। তিনি এই সময়ে কাশিমবাজারের ইংরাজকুঠীর গোমস্তা ওয়াটস্ সাহেবকে হাত করিতে আরম্ভ করিলেন। ওয়াট কলিকাতার ইংরাজ দরবারে প্রায় প্রত্যহই সংবাদ পাঠাইতেন;ইংরাজ গবর্ণর তাহাতেই মুর্শিদাবাদ দরবারের প্রত্যেক কথা ঘরে বসিয়া প্রতিদিন পাঠ করিবার অবসর পাইতেন। রাজবল্লভ ওয়াটসকে হাত করায়, কলিকাতার ইংরাজ-দরবারও তাঁহার হাত হইয়া গেল। সিরাজদ্দৌলা এ সকল কথার সন্ধান পাইয়া, ইহা যে প্রকাশ্য শত্রুতার পূৰ্ব্বলক্ষণ, তাহা বুঝিতে পারিয়াছিলেন। কিন্তু বুঝিলে আর কি

  1. Court's letter, 11 February, 1756.