পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/১৯৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৭৯
ইংরাজদিগের পলায়ন।

বহিয়া তোপমঞ্চের সম্মুখ দিয়া অগ্রসর হইল না। তাহারা প্রহরিসেনাদলকে পরাজয় করিবামাত্র, উত্তর ও দক্ষিণদিকে সরিয়া পড়িতে লাগিল, এবং দেখিতে না দেখিতে ইংরাজদিগের তিনটি তোপমঞ্চই তিনদিক হইতে আক্রান্ত হইল। তখন আর নগর রক্ষা করা সম্ভব হইল না;—পূর্ব্বতোপমঞ্চের অধিনায়ক কাপ্তান ক্লেটন ও তাঁহার সহকারী হলওয়েল সাহেব দুর্গমধ্যে পলায়ন করিবামাত্র, চারিদিকে নবাব-সেনা অধিকার বিস্তার করিবার অবসর প্রাপ্ত হইল। তাহারা ইংরাজের তোপমঞ্চে আরোহণ করিয়া, ইংরাজের অস্ত্রসাহায্যেই দুর্গবাসী ইংরাজদিগের উপরে প্রচণ্ডবেগে গোলাবর্ষণ করিতে আরম্ভ করিল। বীরপদভরে কলিকাতা সত্য সত্যই টলমল করিয়া উঠিল।

 দুর্গমূলে ভাগীরথীগর্ভে কতকগুলি ডিঙ্গী নৌকা এবং একখানি সুবৃহৎ জাহাজ প্রস্তুত ছিল। সায়ংকালে মহিলাদিগকে সেই জাহাজে পাঠাইয়া দিবার ব্যবস্থা হইল। ম্যানিংহাম এবং ফ্রাঙ্কল্যাণ্ড মহিলাদিগের শরীররক্ষার্থ জাহাজ পর্য্যন্ত গমন করিতে অগ্রসর হইলেন; তখন সকলে মিলিয়া ধীরে ধীরে দুর্গাভ্যন্তর হইতে সায়াহ্নের অন্ধকারাচ্ছন্ন ভাগীরথীতীরে সমবেত হইতে লাগিলেন। মহিলামণ্ডলী জাহাজে আরোহণ করিলেন, কিন্তু ম্যানিংহাম এবং ফ্রাঙ্কল্যাণ্ড আর জাহাজ হইতে অবতরণ করিতে, সম্মত হইলেন না। দুর্গরক্ষা করা নিতান্ত অসম্ভর বলিয়া অনেক সময়ে অনেক বীরপুরুষ দুগত্যাগ করিতে বাধ্য হইয়াছেন;—তাহাতে লজ্জিত হইবার কারণ নাই। কিন্তু ম্যানিংহাম এবং ফাঙ্কল্যাণ্ড যেরূপভাবে দুর্গত্যাগ করিয়া রমণীমণ্ডলীর সহিত জাহাজে পলায়ন করিয়াছিলেন,