পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/২০৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৯৩
একটু বাতাস—একটু বাতাস।

হস্তক্ষেপ করিবে? আর তাঁহাকে যে জাগাইবে এমন সাহসই বা কাহার?”

 “এতক্ষণ অনেকেই শান্ত হইয়া ছিলেন, কিন্তু সকলেরই বিলক্ষণ যন্ত্রণা আরম্ভ হইয়াছিল। অল্পক্ষণের মধ্যেই সর্ব্বশরীর এরূপ ঘর্মাক্ত হইয়া উঠিল যে, না দেখিলে অনুমান করা অসম্ভব। শরীরের রক্ত যেন একেবারে জল হইয়া বাহির হইতে লাগিল! ধারা বহিয়া ঘর্ম্মস্রোত ছুটিয়া চলিল! সকলেই পিপাসায় কাতর হইয়া পড়িলাম।

 “নয়টা না বাজিতেই পিপাসা ও শ্বাসকষ্ট অসহ্য হইয়া উঠিল। একেবারে বায়ুরোধ হইলে বরং ভাল হইত,তৎক্ষণাৎ সকল যাতনার অবসান হইত! তাহা হইল না। যে পরিমাণে বাতাস পাইতে লাগিলাম, তাহাতে না যন্ত্রণার অবসান হইল, না জীবন-ধারণের সুবিধা


 “আর পিপাসা সহ্য করিতে পারিলাম না। শ্বাসকষ্টও বাড়িয়া উঠিতে লাগিল। দশ মিনিট থাকিতে না থাকিতেই বুকের মধ্যে খিল ধরিয়া আসিতে লাগিল। সে মর্ম্ম-যাতনা আর অধিকক্ষণ সহ্য করিতে পারিলাম না। উঠিয়া দাঁড়াইলাম। কিন্তু পিপাসা, শ্বাসকষ্ট এবং বুকের ব্যথা যেন বাড়িয়া উঠিল। তখনও সংজ্ঞা ছিল, কিন্তু হায়! সংজ্ঞা বিলুপ্ত হইয়া শীঘ্র শীঘ্র মৃত্যু হইতেছে না কেন,—আর কত কষ্ট সহিব,—আর কতক্ষণে মৃত্যু আসিয়া সকল যন্ত্রণার অবসান করিবে,—এই চিন্তায় ক্রমেই অবসন্ন হইতে লাগিলাম। একটু বাতাস,—একটু বাতাস,—আর কিছু না, কেবল একটু বিশুদ্ধ বাতাস;—মনে হইল বুঝি একটু বাতাস পাইলেই সকল যন্ত্রণার অবসান হইতে পারে। তখন দ্বিগুণবলে লোক ঠেলিয়া জানালার দিকে অগ্রসর হইতে লাগিলাম। লোকে