পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/২৮৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৬৯
যুদ্ধের ফলাফল।

মাত্র লুণ্ঠন-লোভেই) হত্যা করিয়া, তাহাদের বাড়ীঘর ভূমিসাৎ করিয়া দসুতস্করের ন্যায় অর্থশোষণ করিয়াছেন, তাঁহারাই কিনা তরবারির শোণিতকলঙ্ক ধৌত করিতে না করিতেই লেখনী গ্রহণ করিয়া প্রবীণ ধর্ম্মোপদেষ্টার ন্যায় কলিকাতা লুণ্ঠনের জন্য সিরাজদ্দৌলাকে তিরস্কার করিতে বসিয়াছেন। যুদ্ধকলহে একজনের অপরাধে চিরদিনই দশজনের দণ্ড হইয়া থাকে। এক রাবণের অপরাধে সমগ্র রাক্ষসকুল নির্ম্মূল হইয়াছিল; এক নেপোলিয়নের অপরাধে অগণ্য ফরাসীসেনার সর্ব্বনাশ হইয়াছিল; ইংরাজরাজ্যেও এক নরপতির কল্পিত অপরাধে অসংখ্য নাগরিকের শোণিত-প্রবাহে শ্বেতদ্বীপ রুধিরচর্চ্চিত লোহিতবর্ণে সুরঞ্জিত হইয়া উঠিয়াছিল। কলিকাতার ইংরাজেরা দশজনে মিলিয়া, সভা করিয়া, মন্তব্য লিখিয়া, নবাবদূতকে অর্দ্ধচন্দ্র প্রদান করিয়া কি সমুচিত অপরাধ করেন নাই;—না, সে অপরাধ কেবল একজনের অপরাধ? যাহারা অপরাধী ড্রেকসাহেবের সঙ্গে কোমর বাঁধিয়া লড়িবার জন্য যুদ্ধশিক্ষা করিয়া টানার দুর্গাক্রমণে, উমাচরণের সর্ব্বনাশ সাধনে অতিমাত্র প্রশংসনীয় বীরকীর্ত্তির নিদর্শন রাখিয়া কার্য্যকালে প্রাণ লইয়া পলায়ন করিয়াছিলেন, তাঁহারা প্রথমে নিরপরাধ হইলেও আত্মকার্য্যেই অপরাধী হইয়া উঠিয়াছিলেন। এইরূপ সকল দেশেই হইয়া থাকে;— রাজার অপরাধে প্রজার, সেনাপতির অপরাধে সেনাদলের, নানারূপ দণ্ড হইয়া থাকে। যুদ্ধানল জ্বলিয়া উঠিলে, তাহাতে রাজদুর্গের সঙ্গে সঙ্গে কত কাঙ্গাল-কুটীরও ভস্ম হইয়া যায়;—কে তাহার গতিরোধ করিতে পারে? ওয়াট্‌সন্ কোন লজ্জায় সত্যসঙ্কোচ করিয়া লিখিয়া পাঠাইলেন যে, সিরাজদ্দৌলা পরের কথায় নির্ভর করিয়া ইংরাজদিগের সর্ব্বনাশ করিয়াছিলেন? কলিকাতা হইতে নবাবদূতকে অপমান করিয়া তাড়াইয়া দেওয়ার কথা কলিকাতার ইংরাজেরাও অস্বীকার করেন নাই; ওয়াট্‌সন্ কি গলাবাজিতে,