পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৩৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৪৩
কাটোয়ার সমর সভা।

ছিলেন যে, বর্দ্ধমানের মহারাজের সঙ্গে সিরাজদ্দৌলার সদ্ভাব নাই; সুতরাং অনন্যোপায় হইয়া তাঁহাকে লিখিয়া পাঠাইলেন যে, “আপনার অশ্বসেনা যদি এক সহস্রেরও অধিক না থাকে, তথাপি তাহা লইয়াই আমাদিগের সহিত মিলিত হউন।”

 এই পত্র লিখিয়াও ক্লাইবের দুশ্চিন্তা দূর হইল না। তাঁহার আদেশে ২১ জুন মঙ্গলবার সামরিক সভার অধিবেশন হইল। ক্লাইব বলিয়া গিয়াছেন যে, “ইহাই তাঁহার জীবনের প্রথম এবং শেষ সামরিক সভা”।[১] বিংশতি বৃটীশবীরকেশরী চিন্তাক্লিষ্ট বিষণ্নবদনে কাটোয়ার শিবিরে সামরিক সভায় উপবেশন করিলেন। ইঁহাদের নিকট ক্লাইব কি মর্ম্মে প্রশ্ন উপস্থিত করিয়াছিলেন, তাহা লইয়া ইতিহাসে বিলক্ষণ মতভেদ দেখিতে পাওয়া যায়।

 মহাসভায় সাক্ষ্য দিবার সময়ে ক্লাইব বলিয়া গিয়াছেন তিনি জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন যে, এখনই নদীপার হইয়া বাহুবলে সিরাজদ্দৌলাকে আক্রমণ করাই সঙ্গত, কি আরও সংবাদ সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করাই সঙ্গত।”[২]

  1. একথা কি সত্য? চন্দননগর আক্রমণের সময়ে এবং পলাশির আম্রবণে আরও দুইবার সমরসভার অধিবেশনের কথা ইতিহাসে দেখিতে পাওয়া যায়।
  2. Whether they should cross the river and attack Soorajoo Dowla with their own force alone, or wait for furtlier intelligence? Clive's Evidence, First Report p. 149.