পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৩৭১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৫৭
পলাশীর যুদ্ধকাব্য।

এই সুলিখিত চিত্রপঠ পুনঃ পুনঃ প্রদর্শিত হইয়া, কত লোকের নৈতিক অধোগতির পথ প্রশস্ত করিয়া তুলিয়াছে! যাহা সিরাজদ্দৌলার কলঙ্করটনার জন্য কল্পনা-সাহায্যে কত সন্তর্পণে রচিত হইয়াছিল, তাহা যে আমাদিগেরই আধুনিক উদ্যান-বিহারী কুবেরসন্তানদিগের অবিকল ছায়াচিত্র, তাহাও স্পষ্টতর আলোকে উদ্ভাসিত হইয়া উঠিয়াছে!

 ষ্টুয়ার্ট গোলাম হোসেনের পদানুসরণ করিয়া নবাবগঞ্জের যুদ্ধশিবিরে কামাসক্ত শওকতজঙ্গের যে অসাধুচিত্র অঙ্কন করিয়া গিয়াছেন, ইহা কি তাহারই প্রতিবিম্ব নহে? ‘পলাশির যুদ্ধকাব্য’ রচনা করিবার পূর্ব্বে কবি বোধ হয় ষ্টুয়ার্ট পাঠ করিয়া থাকিবেন। প্রমাণঃ—

“—সেই দিন করিয়া মন্ত্রণা,
বরিলাম পূর্ণিয়ার পাপী দুরাচার
কিন্তু পরিণামে হায়! লভিনু কি ফল?
সুরামত্ত, কামাসক্ত, পড়িল সংগ্রামে,
যেমতি পড়িল ক্রৌঞ্চ-মিথুন দুর্ব্বল,
ব্যাধ-কবি বাল্মীকির ব্যাধ-বিদ্ধবাণে।[১]

 ষ্টুয়ার্ট ভিন্ন আর কোন ইতিহাসে এইরূপ সুললিত বর্ণনা দেখিতে পাওয়া যায় না। কিন্তু সিরাজদ্দৌলার কপাল! ষ্টুয়ার্ট পড়িয়াও তাঁহার স্বদেশের কবি নবাবগঞ্জের শওকতজঙ্গের চিত্রপটখানি পলাশির সিরাজদ্দৌলার চিত্রপট বলিয়া জনসমাজে প্রচার করিতে কিছুমাত্র ইতস্ততঃ করিলেন না! “কবির পথ” কি এতই “নিষ্কন্টক”?

  1. পলাশির যুদ্ধ কাব্য। কবিবর লেখককে বলিয়াছেন, তিনি পলাশির যুদ্ধকাব্য রচনার পূর্ব্বে ষ্টুয়ার্টের ইতিহাস পাঠ করেন নাই।