পাতা:সিরাজদ্দৌলা - অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়.pdf/৩৭২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৫৮
সিরাজদ্দৌলা।

 সে কালের ইংরাজ বাঙ্গালী মিলিত হইয়া সিরাজদ্দৌলার নামে কত অলীক কলঙ্করটনা করিয়া গিয়াছেন তাহা ইতিহাসের নিকট অপরিচিত নাই। অবসর পাইলে একালের প্রতিভাশালী সাহিত্যসেবকগণ এখনও কত নূতন নূতন রচনা-কৌশলের পরিচয় প্রদান করিতে পারেন, “পলাশির যুদ্ধকাব্যই” তাহার উৎকৃষ্ট নিদর্শন। যাহা সেকালের লোকেও জানিত না, যাহা সিরাজদ্দৌলার শত্রুদলও কল্পনা করিতে সাহস পাইত না,— একালের লোকে তাহারও অভাবপূরণ করিতে ইতস্ততঃ করিতেছেন না। লোকে বলে, নবাব সরফরাজ খাঁ অশান্তহৃদয়ে জগৎশেঠের পুত্রবধূর মুখাবলোকন করিয়া[১] প্রায়শ্চিত্তস্বরূপ গিরিয়ার যুদ্ধে জীবন বিসর্জ্জন করিয়াছিলেন;—কবি সেই জনশ্রুতি লতাপল্লবে সুশোভিত করিয়া, সিরাজদ্দৌলার স্কন্ধে আরোপ করিবার জন্য লিখিয়া গিয়াছেনঃ—

“______কি বলিব আর,
বেগমের বেশে পাপী পশি অন্তঃপুরে,
নিরমল কুল মম—প্রতিভা যাহার
মধ্যাহ্ন-ভাস্কর-সম, ভূভারত জুড়ে
প্রজ্বলিত,—সেই কুলে দুষ্ট দুরাচার
করিয়াছে কলঙ্কের কালিমা সঞ্চার।”

 যিনি আশৈশব শিবিরে শিবিরে অসিহস্তে জীবন যাপন করিয়া, অন্যায় কৌশলে পলাশিক্ষেত্রে রণপরাজিত হইয়াছিলেন, কবি তাঁহাকে কাপুরুষ সাজাইবার জন্য “হুগ্‌লীর সমরে” “দাঁতে তৃণ লয়ে” “সভয়ে”

  1. Holwell's Interesting Historical Events, Part I, P. 70.